ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

সবই হারালেন জামায়াতের এমপি নজরুল

দল থেকে বহিষ্কারের পর এমপি নজরুলকে নিয়ে শুরু সাংবিধানিক জটিলতা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:৩১ এএম

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে চরম সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দলীয় বহিষ্কারের পাশাপাশি স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের আসন থেকে পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দলের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের জটিলতা এড়াতেই তাঁকে সর্বপ্রথমে নিজ উদ্যোগে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আইনি আবেদন নিয়ে সরাসরি স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠাবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি দলীয় প্রধান আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জামায়াতের সংসদীয় দলের সদস্যরাও নীতিগতভাবে এই বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। সংসদীয় দলের নেতাদের আশঙ্কা ছিল, আগামী অধিবেশনে জাতীয় সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি তুলে ধরলে দলটি সংসদীয় পরিমণ্ডলে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে। অন্যদিকে, সংসদীয় নিয়মানুযায়ী তিনি যদি অবিলম্বে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালান, তবে কিছুদিন হয়তো পদ রক্ষা করতে পারবেন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সংসদে জামায়াতের নির্ধারিত আসনে বসার সুযোগ পাবেন না।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সুস্পষ্টভাবে জানান, নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুলকে সংগঠন থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এখন আর কোনোভাবে দলের অংশ নন এবং সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হবেন না। ফলে তাঁর আসন বাতিলের জন্য যা যা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, জামায়াত তা গ্রহণ করবে। দু-এক দিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত ব্যক্তিস্বার্থ না দেখে নৈতিক আদর্শ বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভবিষ্যতে আদর্শচ্যুতির ব্যাপারে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে, বহিষ্কারের বিষয়ে গাজী নজরুলের অবস্থান জানতে তাঁর ব্যক্তিগত ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও মোবাইল সংযোগ বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। দল থেকে পদচ্যুত হওয়ার ফলে তাঁর পদ শূন্য হবে কি না—তা নিয়ে সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দুটি ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের শর্ত রাখা হয়েছে— দল থেকে পদত্যাগ করা অথবা সংসদে নিজ দলের নির্দেশ অমান্য করে বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া (ফ্লোর ক্রসিং)। সরাসরি বহিষ্কারের ফলে আসন শূন্য হবে কি না, সংবিধানে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবে সাবেক নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা ও আইনবিদরা মত দিয়েছেন, রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করায় এবং সেই দল বহিষ্কার করায় নীতিগত ও রাজনৈতিক নৈতিকতার খাতিরে তাঁর সংসদ পদ ত্যাগ করা উচিত। আবার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির তাঁর সামাজিক গণমাধ্যমের পোস্টে মত প্রকাশ করেছেন যে, নৈতিক স্খলনের দায়ে পদ ধরে রাখার কোনো আইনগত ভিত্তি থাকতে পারে না।

উল্লেখ্য, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা মোতাবেক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর পরপরই অনৈতিক সম্পর্ক ও ভিডিও বিতর্কের জেরে মারধর এবং শ্বাসরোধের অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। অতীতে লতিফ সিদ্দিকী কিংবা আবু হেনার মতো বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে যে সাংবিধানিক বিতর্ক দেখা দিয়েছিল, নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে তা কীভাবে সুরাহা হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর