ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান উত্তপ্ত আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা সালমান খান। শিক্ষার্থীদের ‘শান্তিপূর্ণ’ আন্দোলনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে এই তারকা বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থার অবাধ স্বচ্ছতা ও কোটি কোটি শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সাথে সরাসরি জড়িত এই ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে শিক্ষার্থীদের এই খাঁটি আন্দোলনকে নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার বিশেষ অনুরোধ ও আহ্বান জানান।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বিশেষ বার্তায় সালমান খান ক্ষুব্ধ অথচ ধৈর্যশীল শিক্ষার্থীদের অসীম সাহস ও ধৈর্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াকে এক মারাত্মক ও গুরুতর সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ ধারণ করায় তাঁর খুবই খারাপ লেগেছে। আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার খেলা শুরু হতেই সালমান খান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, এই সংকটটি সম্পূর্ণরূপে ছাত্রসমাজ ও বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এর মধ্যে কোনোভাবেই কুটিল রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটা উচিত নয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে না শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার বা 'হাইজ্যাক' করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত সরকার খুব দ্রুতই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সব ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে উপযুক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, নিট-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিগত কয়েকদিন ধরে তীব্র বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সরাতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তাদের তুমুল সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ (এসিপি) অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন, যাদের পরবর্তীতে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ঘটনার পর পুরো যন্তর মন্তর এলাকা থমথমে হয়ে পড়ে এবং বিশাল সংখ্যক অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন লাগাতার প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে আসা হামলার মুখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বাধ্য হয়েই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই সুযোগে রাজনৈতিক ময়দানেও পারদ চড়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। একই সাথে বিখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও দাবির সমর্থনে অনশনে বসেছেন। অন্যদিকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, গত এক দশকে দেশে অন্তত ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন হয়েছে। তিনি লোকসভায় বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। অবশ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা নিশ্চিত করেছেন যে, শিক্ষার্থীদের এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে যেকোনো আলোচনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রসঙ্গত, সালমান খানের সমর্থন জানানোর আগে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং প্রকাশ রাজও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।