মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে শুরু হওয়া তীব্র ছাত্র ও রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্তাপ এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়েও। উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো মুম্বাই শহরজুড়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও জনসমাগমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই আদেশ আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জারি করা এই প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত যথাযথ প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া মুম্বাই শহরের কোথাও একসঙ্গে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষ একত্রিত হতে বা জড়ো হতে পারবেন না।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মূলত দিল্লির বিখ্যাত প্রতিবাদস্থল জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক ও উত্তাল আন্দোলনকে সার্বিক বিবেচনায় নিয়েই আগাম সতর্কতা হিসেবে মুম্বাই পুলিশ এই কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ইতোমধ্যেই দিল্লির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে মুম্বাইয়ের রাজপথে বিক্ষোভ করার অপরাধে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ জন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে আটটি পৃথক প্রথম তথ্য বিবরণী বা এফআইআর দায়ের করেছে মুম্বাই পুলিশ।
অন্যদিকে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে রাজধানী নতুন দিল্লির জন্তর মন্তরে গত কয়েক দিন ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ ক্রমেই চরম রূপ ধারণ করছে। রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির ব্যানারে পরিচালিত এই বিশাল গণআন্দোলন থেকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগের দাবি তোলা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলন দিন দিন আরও বেগবান করছেন।
রাজধানী দিল্লির এমন সংকটময় ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আজ সকালে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে এক জরুরি ও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে যারা লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করেছে, তাদের সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর আইনি বিচারের মুখোমুখি করা হবে। একই সাথে এসব মামলার সুরাহা করতে বিশেষ ‘দ্রুত বিচার আদালত’ বা ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন, “আমাদের দেশের তরুণদের কল্যাণ এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেকেরই দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি সুনিশ্চিত করতে আমরা বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ দ্রুততার সাথে গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের আস্বস্ত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের নেওয়া ধারাবাহিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। যারা আমাদের উদীয়মান তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার কিংবা ছিনিমিনি খেলার অপচেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বড় ঘোষণার পরও আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়েননি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা দিল্লির জন্তর মন্তরে তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে মুম্বাইয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাতে নতুন কোনো বিক্ষোভ দানা বাঁধতে না পারে, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ।