ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রাহুলের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা রুখে দিল ওয়াংচুকের পরিবার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:০৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান এ আন্দোলন এরই মধ্যে ধারণ করেছে সহিংস রূপ।  তাদের এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্য আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ও পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করে তার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন তারা। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এমনও দাবি করেছেন, পুলিশ সদস্যরা তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তার কানে কানে সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছেন। 

তরুণদের শিক্ষা সংস্কারের আন্দোলনে ঢুকে রাহুল গান্ধীর এমন সব ভূমিকা নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদাতা সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের জবাবে রাহুল গান্ধীর আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই পরিবেশ আন্দোলনকর্মী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করে গীতাঞ্জলি বলেন, ২১ জুলাইয়ের এই আন্দোলন ছিল কেবল ‘অসৎ ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা। রাজনীতিকরণ না করে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে সরাসরি দাঁড়ানো উচিত ছিল কংগ্রেস নেতাদের।’ গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক ও তার সুনামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সাধারণ জনগণ ও তরুণ সমাজকে আর বোকা বানানো যাবে না।

গত সপ্তাহে যন্তর মন্তর থেকে ওয়াংচুককে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার এই অনশন ২৬তম দিনে গড়িয়েছে বৃহস্পতিবার। সামাজিক উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আন্তরিকতার অভাব ছিল। জনগণকে আর বোকা বানানো সম্ভব নয়। এটি এক সচেতন ভারত। যারাই আন্তরিকতাহীন আচরণ করবে, তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনমুখী পদযাত্রায় পুলিশের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর লোক কল্যাণ মার্গ বাসভবনের সামনে নজিরবিহীন অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতারা। সেখান থেকে রাহুলকে জোরপূর্বক চ্যাংদোলা করে আটক করার সময় ধস্তাধস্তিতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। পুলিশি এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহিতার আন্দোলন হিসেবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে কংগ্রেস।

কিন্তু, ওয়াংচুকের স্ত্রী অ্যাংলামো জোর দিয়ে বলেছেন, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) নেতৃত্বে চলমান এই আন্দোলন রাজনৈতিক শ্রেণিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কেবল লোক দেখানো প্রতীকী পদক্ষেপ বা রাজনীতিতে আর কাজ হবে না। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই শেভনিং স্কলার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কাছে কোনো সরকারি বা বিরোধী দল নেই, আমাদের কাছে সংসদই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই সংসদ যেন শিক্ষাকে মৌলিক বিষয় হিসেবে গণ্য করে। তবে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া যে কেউ সাধারণ মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যুক্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী। আদালত থেকে অনুমতির পর ওয়াংচুককে দিল্লির সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অনশন ভাঙার শর্ত হিসেবে ওয়াংচুক সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছেন, ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর ওপর যেন প্রশাসন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়।

তবে, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রাথমিক দাবিটি তার সাম্প্রতিক তালিকায় অনুপস্থিত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, আন্দোলনে নিজের অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছেন ওয়াংচুক। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় তাকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।






এ সম্পর্কিত আরো খবর