ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির শুক্রবারের (২৪ জুলাই) প্রকাশিত একটি বিশেষ খবরের বরাতে জানা গেছে, তীব্র আন্দোলনের মুখেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে বহিষ্কার বা অপসারণ করার কোনো পরিকল্পনা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের নেই।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মন্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত ৫৭ বছর বয়সী প্রবীণ এই মন্ত্রীর পাশেই অবস্থান করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দায়িত্বশীল সূত্রটি জানিয়েছে, ‘‘দেশের জনগণ আমাদের সরকার গঠনের স্পষ্ট গণরায় দিয়েছে এবং আমরা সেই অনুযায়ী নীতিগতভাবে কাজ করে যাব। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (এনটিএ) ভেতরের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে এবং এসব প্রশাসনিক ত্রুটিগুলো খুব দ্রুতই নিরসন করা হবে। ইতিমধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অনৈতিক চক্রে জড়িত একাধিক অপরাধী গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ আসছে।’’
উল্লেখ্য, গত সোমবার যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভারতীয় পার্লামেন্ট অভিমুখে এক বিরাট পদযাত্রার আয়োজন করেন। ওই পদযাত্রা চলাকালে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম লাঠিচার্জ এবং বিপুল টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের এই দমনপীড়নের পর থেকেই আন্দোলন পুরো দেশজুড়ে নতুন রূপ নেয় এবং এর তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ ভারতের অন্যান্য শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সরাসরি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
বিতর্কিত মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মূলত ভারতের ওড়িশা রাজ্যের একজন প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। তিনি বর্তমানে মোদি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো বড় দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে বিতর্কিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ও সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বর্তমানে পদত্যাগের চরম মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন তিনি।