সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত সিজেপির প্রদত্ত লিখিত দাবিসনদের অনুলিপি থেকে জানা যায়, তিন দফার প্রধান দাবিতে মোদি সরকারকে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। তাদের প্রাথমিক শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিতর্কিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে চরম ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১ কোটি রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব ধরণের আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা।
এর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম পুলিশি নির্যাতনের দায় স্বীকার করে ভারত সরকার, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) প্রধান এবং দিল্লি পুলিশের কমিশনারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। সিজেপির স্পষ্ট হুশিয়ারি, তাদের এসব যুক্তিসঙ্গত দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে না মানা হলে দিল্লি থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ আন্দোলন একযোগে পুরো ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরিত সিজেপির অফিসিয়াল চিঠিটি পাঠকদের জন্য অবিকল তুলে ধরা হলো:
‘‘যন্তর মন্তরে চলমান সিজেপির বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে এই চিঠি। সরকার যে একটি পরস্পরের জন্য কল্যাণকর সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী, তা আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।
গত কয়েক দিনে আমরা দেশজুড়ে আমাদের সমর্থক, সদস্য এবং যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সর্বসম্মতিক্রমে আমরা এই স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, আমাদের মূল দাবিগুলো—যেমন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া মানতেই হবে।
পাশাপাশি ভারত সরকার, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের প্রধান এবং দিল্লি পুলিশের কমিশনারকে প্রকাশ্যে সেইসব শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, যাদের ওপর তাদের বাহিনী নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে।
আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, আমাদের এই দাবিগুলো যেন অতি দ্রুত মেনে নেওয়া হয়। অন্যথায় এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে এবং পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
এছাড়া, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আমাদের দেওয়া ৫ দফা দাবির বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া আশা করছি। শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে এই দাবিসনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’