ভারতের সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি রোধে কেন্দ্রীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বিশেষ ভিডিও বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাঝরাতে পোস্ট করা ওই ভিডিও বার্তায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব এবং ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর অপর এক বার্তায় দেশটির তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। ভিডিও বার্তার ইতিবাচক মন্তব্য ও শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক পরামর্শের কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আপনাদের ইতিবাচক সাড়া ও মূল্যবান গঠনমূলক পরামর্শের জন্য তরুণদের জানাই অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের এই ভালোবাসা ও পূর্ণ সমর্থন আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আগামীতে আরও বেশি দৃঢ় করবে।
রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে হাজারো শিক্ষার্থীর উত্তাল আন্দোলনের আবহেই নরেন্দ্র মোদির এই বিশেষ বার্তা সামনে এল। তিনি স্পষ্টভাষায় স্বীকার করেন, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা বা হালকা বিষয় নয়; এটি লাখো পরিশ্রমী শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের ও মানসিকভাবে যন্ত্রণাদায়ক। নরেন্দ্র মোদি জানান, বিগত আড়াই মাসে এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে তার সরকার একাধিক কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি দাবি করেন, প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি অপরাধীকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, সেজন্য দ্রুততম সময়ে পুনরায় স্বচ্ছ পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও তথ্য দেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত মামলাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তার কাছে এসে পৌঁছেছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী সপ্তাহে ভারতীয় পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত নতুন বিল দ্রুত পাসের সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে, প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে কেন্দ্র সরকার উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করেছে। এছাড়া এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ একাধিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক এত পদক্ষেপ সত্ত্বেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের মূল দাবি থেকে একচুলও সরে আসেননি; তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের লিখিত দাবিপত্র জমা দিয়েছে। এই দাবিপত্রে সম্প্রতি নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির মানসিক ধাক্কা সামলাতে না পেরে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। তবে এনডিটিভির বিশেষ প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে যে, বিতর্ক সত্ত্বেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পুরো শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পূর্ণ সমর্থন ও পাশে পাচ্ছেন এবং তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত কেন্দ্রীয় সরকারের নেই।