ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইউরোপজুড়ে আগুনের তাণ্ডব

স্পেন-ফ্রান্সে দাবানলে বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:৫২ এএম

ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও স্পেনে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল এখন চরম ও ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় প্রাণ বাঁচাতে এ পর্যন্ত দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র ও বেপরোয়া এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে শুক্রবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে স্পেন সরকার। দেশটির রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে তিনটি পৃথক ও বড় দাবানল পরস্পর একত্রিত হয়ে বিশাল এক অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে সামরিক বাহিনীর জরুরি সহায়তা ইউনিট (ইউএমই) মোতায়েন করেছে প্রশাসন। বর্তমানে আগুন এল এসকোরিয়াল শহরের দিকে ধেয়ে আসছে। স্পেনের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিলো হতাশাজনক কণ্ঠে জানান, অগ্নিকাণ্ড বর্তমানে এমন এক ভয়াল পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সাধারণ দমকল বাহিনীর সক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছে। ফলে সরাসরি আগুন নেভানোর বদলে জীবন ও সম্পদ রক্ষার রক্ষাকবচ তৈরিতে বেশি নজর দিতে হচ্ছে।

স্পেনজুড়ে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে অনতিবিলম্বে এলাকা ছাড়ার অথবা সুরক্ষিতভাবে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানী মাদ্রিদের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে মন্তব্য করেছেন যে, এটি তাদের পুরো অঞ্চলের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক দাবানল। প্রবল দাবদাহ, ঝোড়ো বাতাস এবং আগুনের দ্রুত বিস্তারের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেবল মাদ্রিদ অঞ্চলেই ৬০ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আভিলা প্রদেশের বিশাল এলাকা আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। সেখানে আটটি পৌরসভা পুরোপুরি খালি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। অনেক এলাকাকে কঠোর লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছে। জীবন বাঁচিয়ে বেঁচে যাওয়া ৮৬ বছর বয়সী বাসিন্দা একোলোজিও কাবরেরা বলেন, জীবনের দীর্ঘ সময়ে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তিনি আগে কখনো দেখেননি। ঘটনার সার্বিক তীব্রতা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সকল নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফ্রান্সেও আগুনের শিখা দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির আটলান্টিক উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল জিরন্দ ও লঁদে দাবানলের তীব্রতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। জিরন্দ অঞ্চলের এই অগ্নিকাণ্ডে ইতোমধ্যেই ১৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি বিস্তৃত সবুজ বনভূমি পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কমপক্ষে ৮০টি ঘরবাড়ি ছাই হয়ে গেছে। ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপের সব মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অনেক পথচারী জীবনের ঝুঁকিতে নৌকায় করে সাগরে আশ্রয় নিয়েছেন। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগুন এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতে দিক পরিবর্তন করে বোর্দো শহরের দিকে হু হু করে ধেয়ে যাচ্ছে, যে অভিযানে ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ জন দমকলকর্মী আগুনে দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জরুরিভিত্তিতে সেনাসদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। ইতোমধ্যে চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়া থেকে উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার পাঠানো শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপজুড়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও বাতাসের গতিবেগই মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত আগুনের মূল কারণ। ইউরোপীয় বন অগ্নি তথ্য ব্যবস্থার (ইএফএফআইএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ইউরোপের বনভূমি গত দুই দশকের গড় হারের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর