রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আকস্মিক পদত্যাগের পর বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ও জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম জোরালোভাবে বাতাসে ভাসলেও, গত দুই দিনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় নতুন করে আরও কয়েকটি বহুল আলোচিত নাম যুক্ত হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাটি এখন অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ও বিএনপির নীতিনির্ধারণে বিশেষ প্রভাব রাখেন এমন সূত্রগুলোর তথ্যমতে, দেশের বাইরের বা রাজনীতির বাইরের কেউ নন; বরং বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির অভিজ্ঞ কোনো সদস্য থেকেই বেছে নেওয়া হতে পারে দেশের পরবর্তী নতুন রাষ্ট্রপতি। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলটির আনুষ্ঠানিক ফোরামে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে প্রক্রিয়াটি এগোনো হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের সময় থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় আসে। এমনকি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও সংক্ষিপ্ত তালিকায় যুক্ত হয়েছিল। তবে শারীরিক প্রতিকূলতাসহ রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাশে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। ফলে আলোচনায় ব্যাপকভাবে এগিয়ে এসেছেন বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের ভেতরে একটি বড় অংশ এবং রাজনীতির বাইরের বিভিন্ন সিভিল সোসাইটির সদস্যরাও তাকে এই পদে আসীন করার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সম্প্রতি এক ফেসবুক বার্তায় মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য 'সেরা ও যোগ্য প্রার্থী' হিসেবে অভিহিত করে লেখেন, বিগত দুঃসময়ে তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে যেভাবে দলকে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং সবসময় বিনয়ী ও সুবক্তা হিসেবে পরিচিতি বজায় রেখেছেন—তাতে সব দিক বিবেচনায় তিনিই এগিয়ে থাকবেন। একই মত প্রকাশ করেছেন ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেহেতু জাতীয় সংসদে বিএনপির স্পষ্ট ও বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত প্রার্থীই যে দেশটির পরবর্তী ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, তা প্রায় নিশ্চিত। আগামী দিনে নতুন রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তীব্র কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত থাকবে।