শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরপরই এক তাৎপর্যপূর্ণ হিন্দি প্রবাদ উচ্চারণ করেছেন এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রভাবশালী নেতা অভিজিত দীপকে। তিনি মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “বলা হতো এ সরকারে পদত্যাগের কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু প্রবাদ আছে, দুনিয়া ঠিকই মাথা নত করে; শুধু মাথা নত করানোর জন্য যোগ্য লোক থাকা চাই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তাঁর দল সিজেপি এবং পুরো বিক্ষোভকারী তরুণ সমাজের ধৈর্য, একতা ও অনড় অবস্থানের কথাই প্রকাশ্যে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ভারতের চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বড়, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও কঠিন পরীক্ষা হলো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, যা সংক্ষেপে ‘নিট’ (NEET) নামে পরিচিত। এই একটি মাত্র পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে ভারতের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর চিকিৎসক হওয়ার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন শুরু হয়। তবে বহুল আলোচিত এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরপরই পুরো দেশজুড়ে তরুণ সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা এই নজিরবিহীন অনিয়মের পেছনে নৈতিক ও প্রশাসনিক দায় চাপিয়ে শুরু থেকেই সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত সোমবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরের মূল মূল আন্দোলনস্থল থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পার্লামেন্ট ভবনের দিকে এক বিশাল পদযাত্রার (মার্চ) আয়োজন করেন। সেই সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক চড়াও হয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। উক্ত ঘটনার পর থেকে এই আন্দোলন সারাদেশে চরম দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ও তীব্র আকার ধারণ করে।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারী বিক্ষোভকারীরা সরকারের সামনে প্রধান তিনটিসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্ত ছুড়ে দেন। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল বিতর্কিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে এক কোটি রুপি করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে এবং যৌক্তিক এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা বা মামলা নেওয়া যাবে না।