ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সিরিয়ায় দুই বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষ: নিহত অন্তত ৩৫, আহত ৩০


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:২৯ এএম

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে রাজধানী দামেস্কে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।

শনিবার দেশটির দেইর আজ জোর-দামেস্ক মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পূর্বাঞ্চলীয় সিরিয়ার সঙ্গে দেশটির রাজধানী দামেস্ককে যুক্ত করেছে। মহাসড়কটির আল-সুখনাহ ও পালমিরার মধ্যবর্তী এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায় বাস দুটি।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় পতিত বাস দুটির মধ্যে একটিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সফর করছিলেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় বাসটিতে ছিলেন সাধারণ যাত্রীরা। বিপরীত দিক থেকে আসা উচ্চগতির বাস দুটির মধ্যে এই নিয়ন্ত্রণহীন সংঘর্ষের ফলে দুটি গাড়িই দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়াসহ দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের জরুরিভিত্তিতে হোমস সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্রুত পরিবহনের সুবিধার্থে উদ্ধারকাজে কয়েকটি হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে জরুরি উদ্ধারকারী দল।

দেইর আজ জোর-দামেস্ক মহাসড়কটি বহু বছর ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থা এবং দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য স্থানীয়দের কাছে পরিচিত। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ার বেসামরিক পরিকাঠামো ও সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোববারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি সিরিয়ার ভঙ্গুর অবকাঠামোরই একটি করুণ ও মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত।

দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্যমতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোগত ত্রুটি, সঠিক তদারকির অভাব এবং বেপরোয়া যানবাহন চলাচলের কারণে বর্তমানে সিরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা অন্যতম প্রধান মৃত্যুঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতে সড়কগুলোর নিয়মিত সংস্কার না হওয়া এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ না থাকায় প্রায়ই এ ধরনের ভয়াবহ জীবনহানির ঘটনা ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় দুটি বাসের গতিই অনেক বেশি ছিল। একটি বাসে সামরিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য থাকার কারণে উদ্ধার অভিযান আরও সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি উদ্ধার করে সড়ক যানজট মুক্ত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহত অনেকের শরীরেই মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিরিয়ার বেসামরিক পরিকাঠামো ধ্বংসের এই প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার সংস্কারের দাবি উঠলেও গৃহযুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট ও স্থবিরতার কারণে সড়কগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হয়নি। ফলে রাজধানী দামেস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হোমস সামরিক হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর