ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সংকট: ইরানে বিমান হামলা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৩৪ এএম

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত তীব্র হামলা চালানোর পর গত দুই দিন ধরে সব ধরনের সামরিক অভিযান হঠাৎ বন্ধ রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার কাজে ব্যবহৃত ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার গুরুতর আশঙ্কায় এই কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সামরিক প্রশাসন।

রোববার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিশ্চিত করে প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর শীর্ষস্থানীয় সামরিক উপদেষ্টাদের মধ্যে মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পূর্বনির্ধারিত বড় ধরনের বিমান হামলার পরিকল্পনা থেকে আপাতত পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।

এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ইরানের সামরিক কাঠামোর ওপর তাদের পরিচালিত বিমান হামলা আরও কয়েকগুণ জোরদার করা হবে। তবে শীর্ষ সামরিক পরামর্শক ও সেনাপ্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পরপরই তিনি তাঁর পূর্বের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে হঠাৎ সরে আসেন এবং হামলা স্থগিতের নির্দেশনা দেন।

সংবাদমাধ্যমটিকে পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুটি পৃথক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডেন কেইন ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি ট্রাম্পকে গুরুত্বের সাথে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা করলে ইরানে তাৎক্ষণিকভাবে আরও বড় ধরনের ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালাতে সক্ষম। তবে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব এলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, নৌবহর ও সেনাসদস্যদের সুরক্ষায় নিয়োজিত ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত সংকটজনক ও বিপজ্জনক হারে তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, লাগাতার তীব্র হামলা চালিয়ে সামরিক শক্তিতে ইরানকে নতিস্বীকার করাতে বা তাদের জোরপূর্বক আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা যাবে কি না—তা নিয়েও বর্তমানে হোয়াইট হাউসের নীতি নির্ধারণী মহল ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রবল অনিশ্চয়তা এবং গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার ফলে ইরানি সাধারণ জনগণের মধ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর ক্ষোভ বাড়ার পাশাপাশি তাদের অভ্যন্তরীণ জাতীয়তাবাদী ঐক্য আরও বহুগুণ জোরদার হয়েছে। তারা মার্কিন সংঘাত ও যেকোনো ধরনের বৈরী বিদেশি হুমকি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে চরমভাবে একাট্টা হয়ে উঠেছেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে এমন তীব্র কৌশলগত ও সামরিক সংশয়ের মাঝেই গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলা চালায়নি ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র মার্কিন বাহিনী।


এ সম্পর্কিত আরো খবর