ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ছক ভেস্তে দিল সিক্রেট সার্ভিস


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:২৫ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চলতি মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জন্য নির্ধারিত বিশেষ উড়োজাহাজ হঠাৎ করে পরিবর্তন করেছেন। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পকে বহনকারী আকাশযান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা কষছিল—এমন একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত থাকা একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘নিউইয়র্ক টাইমস’।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তুরস্কে ন্যাটোর আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন চলাকালেই এই সুনির্দিষ্ট ও আশঙ্কাজনক হুমকির তথ্যটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আসে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার সম্মেলনে গিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিশেষ ও বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে চড়ে।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের আগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে আগেই জানা গিয়েছিল যে, কাতার থেকে প্রাপ্ত নতুন উড়োজাহাজটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের বহুল ব্যবহৃত পুরোনো 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এর মতো কোনো উন্নত, আধুনিক ও কাঙ্ক্ষিত সামরিক প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি ব্যবস্থা নেই।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে চালানো সম্ভাব্য হামলার এই সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র শনাক্ত করার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ‘সিক্রেট সার্ভিস’ ট্রাম্পকে অবিলম্বে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করার কড়া নির্দেশ ও পরামর্শ দেয়। নিরাপত্তাকর্মীদের সেই জোরালো পরামর্শের ভিত্তিতে ট্রাম্প নিজেও ঘোষণা করেন যে, তিনি তুরস্কের ভূখণ্ড ছাড়ার জন্য তাঁর নির্ভরযোগ্য পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজটিই ব্যবহার করবেন।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার হুমকির এই গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্যটি এর আগে কখনো কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এই নতুন অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ্যে আসার ফলে আঙ্কারায় হোয়াইট হাউস কেন হঠাৎ ট্রাম্পের উড়োজাহাজ বদলানোর তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার প্রকৃত কারণ বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছে। এর ফলে কাতার থেকে পাওয়া নতুন এই বিলাসবহুল বিমানের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে থাকা সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত ছায়াবাহিনী বা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রাথমিক লক্ষ্য কাতার সরকারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটি ছিল না; বরং তাদের মূল লক্ষ্য ছিলেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের মূল ছক ছিল ট্রাম্প যে বিমানটিতেই ভ্রমণ করুন না কেন, সেটিকে উড্ডয়নরত অবস্থায় আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র মেরে ধ্বংস করা। অত্যন্ত গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন।

সংবেদনশীল এই বিষয়টি সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করার জন্য ইরানের দীর্ঘদিনের যে কৌশলগত তৎপরতা রয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার নিজ মুখে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর সঙ্গী প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা রক্ষায় নেওয়া আধুনিক পদক্ষেপে আস্থা ব্যক্ত করেন তিনি।

চলতি ন্যাটো সম্মেলন চলাকালেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, "তারা মার্কিন নেতাকে—অর্থাৎ আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চায়। আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় আছি। আজ সকালেও আমি দেখেছি যে তাদের করা প্রতিটি হিটলিস্টে আমার নাম রয়েছে। এত দিন ধরে আমি হয়তো কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম, তবে এ ভাগ্য হয়তো খুব বেশি দিন নাও টিকতে পারে।"

ট্রাম্পের উড়োজাহাজ বদলানোর সুনির্দিষ্ট এই মূল কারণটি মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও খুব বেশি কর্মকর্তাকে জানতে দেওয়া হয়নি। এমনকি অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে স্রেফ জানানো হয়েছিল যে, ইরানকেন্দ্রিক সাধারণ কিছু সতর্কতার কারণে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান পরিবর্তন করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কমিটির সদস্যদেরও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিশেষ ব্রিফিং প্রদান করা হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য শুরুতে উড়োজাহাজ বদলের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কারণ সামনে এনেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিটেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের নতুন উপহার পাওয়া বিলাসবহুল উড়োজাহাজটি ঘুরে দেখার সুযোগ করে দিতেই তিনি তা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন।

তবে সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। গত বছর কাতার থেকে পাওয়া প্রায় ১৪ বছরের পুরোনো এই বোয়িং উড়োজাহাজটিকে 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করতে তড়িঘড়ি বেশ কিছু কাজ করা হয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বিমানটিতে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা যুক্ত করতে শরতের মৌসুমে প্রায় এক মাসের জন্য এটিকে সার্ভিস থেকে সরিয়ে আধুনিকায়ন করা হবে।

বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেকেটারী ক্যারোলিন লেভিট বলেন, "প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে এর সুরক্ষাব্যবস্থা আরও উন্নত ও জোরালো করা হবে। আধুনিকায়নের কাজ শেষ হতে আনুমানিক এক মাস লাগতে পারে।" লেভিট নিশ্চিত করেন যে, এই সংস্কারের সময়টিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বহু ব্যবহৃত পুরোনো 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানেই যাতায়াত করবেন।

এদিকে সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান মার্কিন গণমাধ্যমকে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাঁদের সুরক্ষার আওতায় থাকা শীর্ষ ব্যক্তিদের জন্য বিশ্বজুড়ে যে ধরনের আকাশচুম্বী হুমকির চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা সংস্থার ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। শন কারানের ২৪ বছরের দীর্ঘ সিক্রেট সার্ভিস ক্যারিয়ারে তিনি বর্তমান সময়ের মতো এত জটিল, অস্থির ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনোই হননি। সামগ্রিক বিশ্ব রাজনীতির এই চরম অস্থিরতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জীবন রক্ষা করা এখন সিক্রেট সার্ভিসের জন্য সবচেয়ে বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর