ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের সেমড়া গ্রামের একটি শতবর্ষী পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা এবং ভরাট বন্ধের নির্দেশনার পরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে পুকুর ভরাটের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় শতবর্ষী এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর গোসল, গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে পানি ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং মাছ চাষের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত ১৯ জুলাই থেকে পুকুরটি ভরাটের কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পর বুধন্তি ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ওবায়দুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে বিষয়টি বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পুকুর ভরাটে ব্যবহৃত কয়েকটি পাইপ ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং পুকুর ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেমড়া গ্রামের বাহারাম খাঁ ও সাজু মিয়ার নেতৃত্বে পুনরায় পুকুর ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে ভরাটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, শতবর্ষী এই পুকুরটি শুধু পানির উৎস নয়, এটি এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুকুরটি ভরাট হলে জলাধার সংকট, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সমস্যা এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে অনেকেই সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ডিইও রকিবুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সময়ক্ষেপণের কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই পুকুর ভরাটের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদকের একাধিকবার ফোন করেও ডিইও রকিবুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এলাকাবাসীর দাবি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শতবর্ষী পুকুরটি সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুকুর ভরাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।