ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বার্লিনে সমকামীদের মিছিলে গাড়ি হামলা: গুলিতে নিহত হামলাকারী


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৯:৪২ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বর্ণিল সমকামী পদযাত্রা তথা ‘বার্লিন প্রাইড’-এ গাড়ি ও ছুরি নিয়ে নৃশংস হামলা চালানো মূল সন্দেহভাজন যুবক আবদুল বাল্লাউত ওরফে আবদুল বি-কে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বার্লিন শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপশহর স্পান্দাও এলাকায় আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক অভিযানে নিহত হন তিনি। বার্লিন পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সরকারি বার্তায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২১ বছর বয়সী লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক আবদুল বাল্লাউতকে পুলিশের চৌকস দল স্পান্দাও এলাকায় ঘেরাও করে ফেলে এবং তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রদান করা হয়। তবে আবদুল আইনের কাছে আত্মসমর্পণ না করে বিপরীতভাবে হাতে থাকা ধারালো ছুরি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর সরাসরি আক্রমণের উদ্দেশ্যে উদ্যত হয়ে ধেয়ে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালান। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আবদুল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টার দিকে বার্লিনের সুপরিচিত ও অন্যতম জনবহুল এলাকা টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে আয়োজিত বার্লিন প্রাইডের মিছিলে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি সংঘটিত হয়। একটি দ্রুতগামী সাদা রঙের ভ্যানগাড়ি নিয়ে আকস্মিকভাবে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ওপর উঠে পড়ে গাড়িটি। এ মর্মান্তিক হামলায় একজন নারী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন নিরীহ মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলায় প্রধান ও একমাত্র অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন লেবানিজ বংশোদ্ভূত জার্মান তরুণ আবদুল বাল্লাউত। পুলিশের নথিপত্র ও তদন্তের তথ্য অনুসারে, আন্তর্জাতিক উগ্রপন্থী ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে এর আগেও একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে তার। শনিবার রাতের ওই বিভীষিকাময় হামলার পরপরই বার্লিন পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে পুরো বার্লিন ও তার আশপাশের এলাকাজুড়ে ব্যাপক চিরুনি অভিযান শুরু করে। সুনির্দিষ্ট নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান শুরুর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অপরাধীকে চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ করার মধ্য দিয়ে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রাথমিক অবসান ঘটায় পুলিশ।

বিভিন্ন পুলিশি বিবরণ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার নিজেদের বার্ষিক নিয়মিত পদযাত্রা ‘বার্লিন প্রাইড’-এ যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বার্লিনভিত্তিক সমকামী ও তাদের সমর্থনকারীরা। বর্ণিল আমেজে অনুষ্ঠিত পদযাত্রাটি যখন রাত ১০টার দিকে বিশাল টিয়েরগার্টেন পার্ক এলাকায় পৌঁছায়, ঠিক সেই মুহূর্তে একটি দ্রতগতির সাদা রঙের ভ্যানগাড়ি বেপরোয়া গতিতে মিছিলে এসে সরাসরি ওপর উঠিয়ে দেওয়া হয়। গাড়িটি সরাসরি চালকের আসনে বসে চালাচ্ছিলেন অভিযুক্ত আবদুল নিজেই। প্রাথমিক আঘাত হানার পরপরই তিনি ভ্যানগাড়ি থেকে দ্রুত নেমে পড়েন এবং পদযাত্রায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর ধারালো ছুরি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ছুরি চালিয়ে উপস্থিত বেশ কয়েকজনকে মারাত্মক আহত করার পর তিনি কৌশলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চম্পট দেন।

আবদুল পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পূর্বে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্দার দোবরিন্দ বার্লিনে সংঘটিত এই হামলার ঘটনাকে স্পষ্টভাবে একটি ‘ইসলামি সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুততম সময়ে এমন একজন কুখ্যাত সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছি, যার নাম এর আগেও বিপুল সংখ্যক মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, উগ্রপন্থা এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থী মহলের সঙ্গে গভীর সংশ্লিষ্টতার কারণে পুলিশি ও গোয়েন্দা রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।”

বার্লিনের পাবলিক প্রসিকিউটর দপ্তরের অফিসিয়াল নথিপত্র এবং রেকর্ড ঘেঁটে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে জার্মানি সীমান্ত ত্যাগ করে তুরস্ক হয়ে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন এই বাল্লাউত। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল লেবানন পথ ব্যবহার করে সিরিয়ায় গিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসে যোগ দেওয়া। কিন্তু নানা প্রশাসনিক ও আঞ্চলিক কারণে সিরিয়ায় আর প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি তার। ধারণা করা হয়, সিরিয়া যেতে না পারলেও লেবানন ভূখণ্ডে অবস্থানকালীন সময়েই আইএসের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে তার সুনির্দিষ্ট যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক স্থাপিত হয়েছিল।

উগ্র ধর্মীয় চরমপন্থা ও সাম্প্রদায়িক সশস্ত্র সন্ত্রাসে সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে লেবানন পুলিশের হাতে তিনি প্রথম গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে নানা আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত নভেম্বরে তাকে জার্মানির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জার্মানিতে ফেরত পাঠানোর পর ব্রান্ডেনবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে গ্রেপ্তার দেখায় বার্লিন পুলিশ।

অতঃপর চরমপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে চলতি বছরের মে মাসে আবদুলকে এক বছর ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন জার্মানির একটি বিচারক আদালত। দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হয়ে প্রায় এক বছর কারান্তরীণ জীবন কাটানোর পর তার নিযুক্ত আইনজীবীর আবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় তার ৬ মাসের প্যারোল মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু প্যারোলে মুক্তির পর মাত্র ২ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে বার্লিনের রাজপথে এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত করেন আবদুল, যার সমাপ্তি ঘটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর