ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:২৪ পিএম

দেশের বাজারে বিক্রিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।

রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে বিবাদী করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, টুথপেস্টে কোনোভাবেই মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়। এটি মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত দুটি নমুনার উভয়টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

পরীক্ষাধীন ৩৪টি নমুনার মধ্যে ছয়টি ছিল শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্ট। এর মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, দেশের বিভিন্ন খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।

তিনি জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। তবে আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল’-এ। প্রতি ১০০ গ্রামে সেখানে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এ টুথপেস্ট ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন, যা গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ’-এ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)’তে ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টি’তে ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার’-এ ১০০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।

‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট’-এ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি (স্ট্রবেরি)’ এবং ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা’-য় পাওয়া গেছে ৬০টি করে কণা।

এ ছাড়া ‘এএম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি (অরেঞ্জ)’, ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ এবং ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশে’-তে প্রতি ১০০ গ্রামে ৪০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস (অরেঞ্জ)’, ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ এবং ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ’-এ প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া শিশুদের টুথপেস্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)’, ‘মেরিল বেবি (স্ট্রবেরি)’, ‘মেরিল বেবি (অরেঞ্জ)’ এবং ‘পেপসোডেন্ট কিডস (অরেঞ্জ)’।

অন্যদিকে, আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো—‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’, ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ এবং ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’।

এসবের মধ্যে ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো)’ শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্ট। গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর