দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান শর্তই হলো স্থিতিশীল পরিবেশ ও নিরাপত্তা। নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিনিয়োগকারীরা সব সময় এমন পরিবেশে বিনিয়োগ করতে চান, যেখানে তাদের পুঁজি, প্রতিষ্ঠান এবং জনবলের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। যদি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম অনিশ্চয়তাও সৃষ্টি হয়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারান। একই সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তারাও নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হন।
তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অপরাধ দমন, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিইআইজেডসহ দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে শিল্পকারখানা, বিনিয়োগকারী ও কর্মরত জনবলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। কোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়ান, চীনা সড়ক এবং সেতু কর্পোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই, চীনা রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আনোয়ারায় গড়ে ওঠা এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধি, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে দেশের শিল্প খাত আরও সম্প্রসারিত হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।