ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

হামলা বন্ধ রাখলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:৫৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক দুই দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় বিরতি লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার ও রোববার রাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনায় অভিযান চালায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম)। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত কোনো মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায়নি ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এর আগে টানা ১৩ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে প্রতি রাতে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান হামলার বদলে হামলার নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।’

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে শুরু করে।

যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সংঘাত শুরুর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এ নৌপথে যেকোনো ধরনের বাধা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলে তেহরানকে টোল দিতে হবে। ইরানের দাবি, প্রণালিটি তাদের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে ইরানের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক নৌপথে এমন শর্ত আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌচলাচলের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এই উত্তেজনার মধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৩ দিনের হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।

সাম্প্রতিক দুই দিনের সামরিক বিরতি নিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সদস্য মাইক ওয়াল্টজ বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে হামলায় সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজ সানডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান। সে কারণেই সামরিক অভিযানে বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিরতি সাময়িক হলেও তা কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দুই পক্ষের অবস্থান এবং চলমান উত্তেজনা বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর রয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর