গত বৃহস্পতিবার মন্টানা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর টিম শিহি বিলটি উত্থাপন করেন। সিনেট অধিবেশনে বিলটির পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, এইচ-১বি ভিসার মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্মক্ষেত্রে বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর ঘাটতি পূরণ করা। মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা এই ভিসা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল না।
এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষায়িত কর্মীভিসা। দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দেশটিতে কাজের সুযোগ করে দিতে এই ভিসা কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই ভিসা ব্যবস্থায় নানা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলটিতে তিন বছর পর এইচ-১বি ভিসা চালু হলে ফি ১ লাখ ডলারে উন্নীত করা, বার্ষিক ভিসা কোটা ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা, ন্যূনতম বেতন ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা এবং বর্তমান লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে মজুরি-ভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ নিষিদ্ধ করা, অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচি বন্ধ করা, এইচ-১বি ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিতে রূপান্তরের সুযোগ সীমিত করা এবং এইচ-শ্রেণির ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে।
অভিবাসন আইনজীবীরা মনে করছেন, এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিলটি এমন সময়ে এসেছে যখন কয়েক সপ্তাহ আগে একটি মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি পুনর্বহালের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে নিম্ন আদালতের সেই রায় বহাল রয়েছে, যেখানে ওই ফি-কে বেআইনি কর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হয়। পাশাপাশি উচ্চতর ডিগ্রিধারী আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা সংরক্ষিত থাকে।
ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে।
সূত্র: পিটিআই