নিহত রুবেল লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্ছানগর এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন চৌধুরীর বড় ছেলে।
জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে রুবেলকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে একটি বালুবাহী ড্রামট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হলে সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, বালুবাহী ড্রামট্রাকের বেপরোয়া চলাচল দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব ট্রাক চলাচলের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রাত নামলেই মহাসড়কে সারিবদ্ধভাবে ড্রামট্রাক চলাচল করে এবং অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক চালক ক্লান্ত, অদক্ষ কিংবা মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালান। ফলে পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিশ্চা) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম উদ্দিন নিজামী বলেন, প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে কার্যকর না হওয়ায় ড্রামট্রাকের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। রাতের চালকদের ফিটনেস ও মাদকাসক্তি পরীক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি শহরের এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে একই ধরনের দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর কাকলি শিশু অঙ্গনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন এবং তাকে বহনকারী রিকশাচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্কুলে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ড্রামট্রাক তাদের চাপা দেয়। ওই দুর্ঘটনার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দুই পরিবারের শোক কাটেনি।
আফরিনের মা বলেন, ‘আমার সন্তান আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। প্রতিদিন তার কথা মনে পড়ে। যারা বেপরোয়াভাবে এসব গাড়ি চালায়, তারা কি কখনো ভেবে দেখে একটি পরিবারের কী অপূরণীয় ক্ষতি হয়?’
নিহত রিকশাচালকের স্বজনরাও জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা চরম মানবিক ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
সনাকের সদস্য অধ্যাপক জেড এম ফারুকী বলেন, প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে বালুবাহী ড্রামট্রাকের দৌরাত্ম্য কমবে না। দেড় বছরে ১৩ জনের মৃত্যু শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগ এবং চালকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি এবং আইন অমান্যের সুযোগে রাতের বেলায় বালুবাহী ড্রামট্রাকগুলো মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। তারা অবিলম্বে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, চালকদের ফিটনেস ও মাদক পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।