ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সরকারি নালা দখলে জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন করতে গিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৬:৩৪ পিএম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে সরকারি পানি নিষ্কাশনের নালা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প পথে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিতে গেলে গ্রামবাসীর ওপর মরিচ, হলুদ ও পাথরের গুঁড়ো নিক্ষেপসহ অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪ নম্বর পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হেলিপ্যাড রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সরকারি খাস জমির ওপর থাকা শতবর্ষী একটি পানি নিষ্কাশন নালার ওপর স্থানীয় আব্দুস সোবাহান ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নালার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় দেড় মাস ধরে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় শতাধিক বসতবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা কৃষিজমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কয়েকটি দিঘির মাছ বেরিয়ে গেছে এবং প্রায় ৪০০টি সুপারি গাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নালা দখলমুক্ত করার জন্য তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে তাদের দাবি।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এলাকাটি পরিদর্শন করে সরকারি খাস জমি পুনরায় পরিমাপের নির্দেশ দেন। এলাকাবাসীর দাবি, পরিমাপ শেষে সংশ্লিষ্ট নালাটি সরকারি খাস জমির অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এরপর অভিযুক্ত পক্ষ নালা খুলে দেওয়ার জন্য দুই দিনের সময় নিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পরে এলাকাবাসী আফসার আলীর সম্মতিতে তার বাড়ির পাশ দিয়ে বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে গেলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুস ছালামের পরিকল্পনায় আব্দুস সোবাহান, ছামাদ, আমিনুর রহমান, মমিনুর রহমানসহ আরও কয়েকজন নারী-পুরুষের ওপর হামলা চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ইট-পাটকেল, মরিচের গুঁড়ো, হলুদের গুঁড়ো ও পাথরের গুঁড়ো নিক্ষেপ করেন। এ সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়েও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

ঘটনার পর বিচার এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন স্থানীয়রা। তারা সরকারি খাস জমি উদ্ধার, পানি নিষ্কাশনের নালা উন্মুক্ত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কৃষি, বসতবাড়ি ও পরিবেশের আরও ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর