ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ইরানের অনুরোধেই মার্কিন হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে: ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:২৬ এএম

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান সামরিক অভিযান স্থগিতের আসল কারণ ব্যাখ্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছেন, ইরান পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক শান্তি সংলাপে বসার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তেহরানের সেই কূটনৈতিক আহ্বানের প্রেক্ষিতেই তিনি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সামরিক অভিযান আপাতত মুলতবি রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন রাষ্ট্রপতির জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দকৃত সরকারি বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ সফররত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক জরুরি মতবিনিময়কালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে অভিযান স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “তারা (ইরান) খুব ভদ্র ও শিষ্টাচারপূর্ণভাবে আমাদের জানিয়েছে, ‘দয়া করে আপনাদের এই সামরিক অভিযান থামান, আসুন আমরা একসাথে সাক্ষাৎ করি ও আলোচনায় বসি’। সুতরাং, আমরা এখন ঠিক সেই পরিস্থিতিতে অবস্থান করছি এবং দেখা যাক সামনে কী ঘটে। তবে যদি আমরা কোনো সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি, তাহলে পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে আমাদের আবার সেই পুরোনো সামরিক পদক্ষেপের পথেই ফিরে যেতে হবে।”

ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভেঙে চলতি জুলাই মাসের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। সেই হামলার জের ধরে পরবর্তীতে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালাতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড 'সেন্টকম'।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে থাকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি।

টানা ১৩ রাত ধরে দুই দেশের মধ্যে এই বিধ্বংসী আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের পর গত ২৫ জুলাই শনিবার সেন্টকমের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে অভিযানে বিরতি ঘোষণা করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী আক্রমণ বন্ধ করার পর থেকে ইরানও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে নিজেদের পাল্টা সামরিক হামলা পুরোপুরি স্থগিত রাখে।

অতি সম্প্রতি ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-কে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সংঘাত শুরুর প্রথম দিন থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের পক্ষ থেকে আগ্রাসন ও হামলা চালানো বন্ধ রাখে, তবে ইরানও স্বভাবতই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখবে। ইরানের উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে এই বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং জনসমক্ষে এসে ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা থামানোর নেপথ্য কারণ স্পষ্ট করলেন।

তবে এর আগে গত ২৬ জুন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রভাবশালী মুখপাত্র গণমাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আবারও কোনো শান্তি সংলাপে বসার মতো পূর্বপরিকল্পনা তেহরানের আপাতত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে দুই দেশের এই কূটনৈতিক ও সামরিক স্নায়ুযুদ্ধের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর