পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাডুনা রাজ্যের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৩০ জন নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে অতর্কিতভাবে ওই গ্রামে প্রবেশ করে বন্দুকধারীরা সাধারণ মানুষদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ও নির্বিচারে গুলি ছুড়লে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষাদময় এই ঘটনার বিবরণ নিশ্চিত করেছে।
আক্রান্ত ওই গ্রামপ্রধানের সচিব ডোগন রানা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সশস্ত্র ডাকাত ও সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে তাদের নিভৃত এলাকায় প্রবেশ করে চরম তাণ্ডব শুরু করে। তারা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই মর্মান্তিক ও নৃশংস হামলায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত আটটি শিশু রয়েছে এবং আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সশস্ত্র অপরাধী চক্র ও বিভিন্ন ডাকাত গ্যাংগুলোর ক্রমবর্ধমান এই জাতীয় চরম সহিংসতা নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলজুড়ে এক তীব্র নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। সেখানে কোনো কারণ ছাড়াই প্রায়শই বিভিন্ন নিরীহ জনপদে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।
যদিও দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী ‘বোকো হারাম’ এবং ‘আইএসডব্লিউএপি’-র মতো কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সহিংস বিদ্রোহের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সরকারকে, তবে কাডুনা রাজ্যের এই বিশেষ ও নৃশংস হামলার দায় এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা এবং ওই এলাকার যুবনেতা ইশায়া দাওয়া ভয়ঙ্কর এই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, হামলাকারীরা মধ্যরাতের দিকে কাউরু এলাকার নারিডন গ্রামে ঢুকে চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং ঘুমে থাকা অসহায় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।
তিনি আরও আকুল কণ্ঠে প্রকাশ করেন যে, বন্দুক ব্যবহারের পাশাপাশি কোনো কোনো বাসিন্দাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য দিতে গিয়ে দাওয়া জানান, এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অসহায় নারী, নিষ্পাপ শিশু এবং প্রবীণ বৃদ্ধরা। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা রক্তপাত ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে পুরো গ্রামটির বেশ কয়েকটি বাসাবাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নৃশংস এই হামলার ঘটনা ঘটার দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর ভোরের দিকে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে উপস্থিত হন। তবে কাডুনা রাজ্য পুলিশ বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র মনসুর হাসান এই বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বর্বরোচিত এই হামলার ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং ঘটনার বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য সবার সামনে উন্মোচন করা হবে।