ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক জরুরি কূটনৈতিক সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে গিয়ে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। আন্তর্জাতিক সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র ইরান যুদ্ধ এবং সামগ্রিক সামরিক পরিস্থিতিই হবে তাঁদের এই বহুল আলোচিত বৈঠকের প্রধান আলোচনার বিষয়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত বেশ কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর চালানো বিপজ্জনক ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব। সৌদি আরবের সরকারি সূত্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের পরিচালিত এসব ড্রোন হামলায় সরাসরি দেশের রাজধানী রিয়াদ এবং বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর তেল স্থাপনাগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
একই সময়ে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের সময় আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী আইন চরমভাবে লঙ্ঘনের একাধিক সুনির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য তাঁদের তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে নথিভুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্কের মতে, ইসরায়েলের সংঘটিত এসব বেপরোয়া ঘটনার বেশ কয়েকটি প্রত্যক্ষভাবে গুরুতর 'যুদ্ধাপরাধের' পর্যায়ে পড়তে পারে।
এদিকে, চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুবই ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ আলোচনা চলছে বলে এক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইতিবাচক বার্তার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই খুব দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের আলোচনা ঝুলিয়ে বা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে একেবারেই রাজি নয়।
তবে মার্কিন রাষ্ট্রপতির দেওয়া এই বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি এনেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে নিজেদের নিরাপদে বের করে নেওয়ার সঠিক পথ খুঁজতে বর্তমানে চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছে খোদ যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের এই বাক্যবাণে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।