রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব ড. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ২১(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
জারি করা প্রজ্ঞাপনের শর্তাবলি অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা তাঁর চাকরির স্বাভাবিক অবসরের নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত—যেটি সময়ানুক্রমিকভাবে আগে আসবে—প্রো-ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের ওপর অর্পিত যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে প্রয়োজনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জনস্বার্থে যেকোনো সময় এই নিয়োগ আদেশ বাতিলের ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের একজন অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ ও সম্মানীয় শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছেন যে, তাঁর এই অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও অধিক গতিশীল হবে।
উল্লেখ্য, রুয়েটে সর্বশেষ প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. মর্ত্তুজা আলী। তিনি ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর প্রো-ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর তাঁর নির্ধারিত চার বছরের সফল মেয়াদ পূর্ণ করেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রো-ভিসির গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য অবস্থায় ছিল। দীর্ঘ এই সময় পর নতুন প্রো-ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে রুয়েট প্রশাসনের একটি বড় শূন্যতা ও প্রশাসনিক অভাব দূর হলো।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন প্রো-ভিসির যোগ্য নেতৃত্বে রুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা, সমন্বিত প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং চলমান ভৌত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে আরও বেগ আসবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের আগমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তসমূহকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।