মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, বিষয়টি যাচাই করতে তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানা থেকে টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, স্বীকৃত দেশি বা বিদেশি পরীক্ষাগারে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলে যদি কোনো পণ্যে বাংলাদেশ মান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় অথবা অনুমোদনহীন কোনো উপাদান ব্যবহারের বিষয় নিশ্চিত হয়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংস্থাটি জানায়, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উদীয়মান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে এখনো বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণা চলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এর ফলে মানুষের শরীরে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএসটিআই জানায়, বিশ্বে টুথপেস্টসহ বিভিন্ন কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ ব্যবস্থা নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে টুথপেস্টসহ কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহৃত মাইক্রোবিড নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী টুথপেস্টসহ কসমেটিকস পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদের ২০২৭ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত করা প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য এখনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষাপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়নি।
বিএসটিআই আরও জানায়, টুথপেস্ট পণ্যের জন্য বাংলাদেশে ‘বিডিএস ১২১৬:২০১২ স্পেসিফিকেশন ফর টুথপেস্ট’ নামে একটি মান নির্ধারণ করা রয়েছে। সরকার এসআরও নম্বর ৫০-আইন/২০১৯ এবং এসআরও নম্বর ৫১-আইন/২০১৯ জারির মাধ্যমে টুথপেস্ট উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে।
লাইসেন্স দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থা, মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং পণ্যের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হয়। বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান অনুযায়ী টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা রয়েছে। ওই তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উল্লেখ নেই।
সংস্থাটি বলেছে, কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেলেই তা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ বিষয়ে কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন।
বিএসটিআই ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষার কাঁচা তথ্য (র ডাটা) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে। পাশাপাশি টুথপেস্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও কাঁচামাল, উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ কিংবা নিম্নমানের ঘোষণা করা হবে না।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং নতুন পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করে বাংলাদেশ মান হালনাগাদ করা হবে।