গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল নেতা সাহাবুউদ্দিন একটি মামলাকে কেন্দ্র করে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা সম্পন্ন হওয়ার পরও মামলাটি চলমান রয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে অযথা হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে।
সাহাবুউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বৈঠকে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একটি আপোষনামায় স্বাক্ষর করা হয়। একই সঙ্গে মামলার বাদী সাংবাদিক আবুল হাসান ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, আপোষের শর্ত অনুযায়ী গত ২৩ জুলাই বিষয়টি আদালতকে অবহিত করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে মামলার বাদী আবুল হাসান আদালতে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করেন সাহাবুউদ্দিন। ফলে মামলার কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলতে থাকে।
পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন গ্রহণ করেন। তার অভিযোগ, জামিন নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় ডিবি পুলিশের পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করার চেষ্টা করেন। তবে সেখানে উপস্থিত আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
সাহাবুউদ্দিন বলেন, একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। পরে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের অর্থও প্রদান করা হয়েছে। এরপরও আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
তিনি আরও বলেন, আপোষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পরও যদি মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে মামলার বাদী সাংবাদিক আবুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলো আদালতের কার্যক্রম এবং তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি-দাওয়ার সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্বও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।