ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১১:১৭ এএম

গতকাল মঙ্গলবার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো জেলায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর ওই এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকেই চাপা পড়ে থাকায় নিহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ভবনে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ধ্বংসস্তূপের গভীরে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন এবং তারা উদ্ধারের প্রতীক্ষায় রয়েছেন। সময় অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় প্রতিটি মুহূর্ত এখন তাদের জন্য মহামূল্যবান। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন যে, আটকে পড়া সব মানুষকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করতে সরকার তার সমস্ত সক্ষমতা এবং শক্তি প্রয়োগ করবে।

জাপানের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে) কিউশু দ্বীপে এই ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূকম্পনটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের মূল উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টর ছিল কিউশুর কুমামোতো জেলার সাগর উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে।

সাগরের তুলনামূলক কম গভীরে বা অগভীর অংশে মূল ভূকম্পন সৃষ্টি হওয়ায় ভূপৃষ্ঠের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে অত্যন্ত তীব্র ও ভয়াবহ কম্পন অনুভূত হয়। ফলে পুরো কিউশু দ্বীপজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কুমামোতো জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে পুরো জেলার বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার তীব্র ক্ষতি হওয়ায় এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কিউশু ও কুমামোতোর সড়ক ও মহাসড়কগুলোর অবস্থা চরম বেহাল হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে পুরো জেলার প্রায় প্রতিটি মূল সড়ক ও গলিপথে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। বহু জায়গায় রাস্তা ধসে গিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যাতায়াত ও যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের গতিকে বেশ শ্লথ করে দিয়েছে।

ভূমিকম্পের ভয়াবহতা সামলে ওঠার পরপরই কুমামোতোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। সশস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা রাতভর অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ধারাবাহিক উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৩ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

মূল ভূমিকম্পের আঘাতের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতো শহরের একটি জনবহুল শপিং মলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মলটির একাংশ ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে ভবনের প্রধান গ্যাস সরবরাহ লাইনে লিকেজ বা ছিদ্র তৈরি হয়েছিল, যা থেকে এই মারাত্মক বিস্ফোরণটি ঘটে। শপিং মলটির ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০ বছর বয়সী দু’জন তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। ওই ঘটনার পর থেকে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের খোঁজে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শক্তিশালী ও বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর সাধারণত বারবার ‘আফটারশক’ বা পরবর্তী ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। এই সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের বিপুলসংখ্যক আতঙ্কিত বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারিভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন ভূমিকম্প আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, কুমামোতো হলো জাপানের কিউশু অঞ্চলের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর। এই বড় ও জনবহুল শহরটিতে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। শহরের বিপুল জনসংখ্যা ও বড় আকারের কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

এদিকে, হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন মানবেতর জীবনযাপন করছে। তদুপরি, অঞ্চলের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছে। তীব্র গরমের কারণে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি সাধারণ বাসিন্দারা মারাত্মক হিটস্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন বলে চরম উদ্বেগ ও আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে কুমামোতো নগর কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি খাবার পানি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ঠান্ডা বাতাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

(সূত্র: রয়টার্স)


এ সম্পর্কিত আরো খবর