ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলার নেপথ্যে যা বলছেন স্থানীয় নেতারা


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:১৭ পিএম

হবিগঞ্জে পথসভা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অতর্কিত এই হামলায় অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন এবং কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ ছিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পথসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় এমপি জি কে গউছের তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার জেরেই মূলত এই হামলার ঘটনা ঘটে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল চত্বরে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনের ভূমিকা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানামুখী সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। এই বক্তব্যের পরপরই পুরো এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়েই তাঁদের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন বিএনপির একাধিক স্থানীয় প্রতিনিধি।

এনসিপি ও স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ‘জুলাই জাগরণ’ পদযাত্রায় অংশ নেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। পরবর্তীতে তাঁরা বানিয়াচংয়ে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। সবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সেখান থেকে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে আক্রমণের শিকার হন।

পথসভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর ভিত্তি করে বিচার নিশ্চিত ও দেশ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে অসৎ ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের নেতৃত্ব নিজেদের পায়েই কুড়াল মারছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, বর্তমানে কেবল বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হলেও অন্যদের কারাগারে রাখা হচ্ছে।

প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, হামলাকারীরা এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িটি থামিয়ে চালক ও ভেতরে থাকা নেতাদের জোরপূর্বক নামিয়ে মারধর করে। এ সময় ঘটনার ছবি তুলতে গেলে এক সাংবাদিককেও বেধড়ক মারধর করা হয়।

হামলার তীব্রতার মধ্যে এনসিপির শীর্ষ নেতারা পাশে থাকা সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জ প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকশ’ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে চরম উত্তেজনার মুখে উদ্ধার করে তাঁদের সার্কিট হাউসে নিয়ে যান। এ সময় একপক্ষ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিলে পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

হামলার দায় ছাত্রদল ও যুবদলের ওপর চাপিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, হুইপ জি কে গউছের অনুসারী ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। হামলায় এক কর্মীর চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক নেতার হাত ভেঙে গেছে। তিনি নিজেও হাতে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান। এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। রাত ১০টার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁদের মৌলভীবাজারে পাঠায় জেলা প্রশাসন।

সার্বিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্কিট হাউসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল।

অন্যদিকে, হামলার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপি নেতারা সমাবেশ থেকে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দেওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান। এরই একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর