ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

চলাচলের রাস্তায় ঈদগাহের প্রাচীর: অবরুদ্ধ ৪০টি পরিবার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৫১ পিএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বহু বছরের ব্যবহৃত একমাত্র চলাচলের রাস্তায় ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন একটি গ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবার। তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এই নজিরবিহীন ও মানবিক সংকটপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে। চলাচলের একমাত্র পথটি হঠাৎ করে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার কারণে ওই এলাকায় বসবাসকারী কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ কার্যত নিজেদের বসতবাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। গ্রামের মাতব্বর ও স্থানীয় প্রধানদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ধর্না দিয়েও কোনো সমাধান বা প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের স্থানীয় মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকাটিতে প্রায় ৪০টি পরিবারের সদস্যরা বংশপরম্পরায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। বসতবাড়ি থেকে বের হয়ে মূল সড়কে যাওয়ার জন্য তারা বহু বছর ধরে এই পথটিই নিয়মিত ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে গৃহস্থালির কাজে উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া, অসুস্থ রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতালে পরিবহন করা, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের স্কুলে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সব কাজেই এই পথটি ছিল একমাত্র ভরসা। এমনকি ওই একই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন মনোহরপুর জামে মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন পরিবারগুলোর বয়স্ক ও স্থানীয় মুসল্লিরা।

কিন্তু সম্প্রতি গ্রামের কতিপয় প্রভাব বিস্তারকারী গ্রাম্য প্রধান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ ও ব্যবহারের কথা তোয়াক্কা না করে রাস্তাটির ওপরই ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ফলে চলাচলের ওই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কিংবা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো এখন তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অবশ্য চলাচলের পথ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে গ্রাম্য প্রধান মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিন্ন সুর তুলেছেন। তিনি দাবি করে জানান, ওই পরিবারগুলোর যাতায়াতের সুবিধার্থে অন্য আরেকটি বিকল্প রাস্তা রয়েছে। তারা চাইলেই সেখান দিয়ে অনায়াসে চলাচল করতে পারে। তবে গ্রাম্য প্রধানের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একাধিক অধিবাসী জানান, যে বিকল্প রাস্তার কথা বলা হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সরু। ওই গলি দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটে যাওয়াও অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য, যানবাহন বা রোগী নিয়ে চলাচল করা তো দূরের কথা।

ঈদগাহ মাঠের পাশ দিয়ে থাকা এই পুরোনো পথটিকে নিজেদের চলাচলের একমাত্র স্থায়ী রাস্তা দাবি করে মো. শাহালম প্রাং, মোছা. জমিনা খাতুন, মোছা. লাইলী খাতুনসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন কিংবা প্রাচীর নির্মাণ হোক—এ নিয়ে তাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু ৪০টি পরিবারের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে কেন প্রাচীর দেওয়া হবে? তারা বছরের পর বছর ধরে একমাত্র এই রাস্তা ব্যবহার করেই যাতায়াত করছেন। প্রাচীর দিয়ে যদি এই পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে তাদের বের হওয়ার আর কোনো উপায় থাকবে না। এমনকি তাদের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। বাধ্য হয়ে এই অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তারা ৪০টি পরিবারের স্বাক্ষর সংবলিত একটি আবেদন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানান, অভিযোগটি জমা নেওয়া হয়েছে এবং সরজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর