ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইরানে হামলার ছক আঁকলে জ্বলবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য: তেহরান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:৫২ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে বড় ধরনের যুদ্ধের কালো মেঘ। তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালালে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের বিপরীতে ‘যথাযথ ও কঠোর’ প্রতিঘাত হানার হুঙ্কার দিয়েছে দেশটি। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের এমন শক্ত অবস্থানের কথা ঘোষণা করল ইরানি প্রশাসন।

সম্প্রতি তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদাভাবে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এসব কথোপকথনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে সমান অনুপাতে ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক উপায়ে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চড়াও হওয়ার সরাসরি ইঙ্গিত দেন। কেবল সামরিক চাপই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় দাবি করেন, ইরান মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে এবং তিনি দেশটির মুদ্রাব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন। ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থানের পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং তাদের নাগরিকদের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো জ্বালানি বা অর্থনৈতিক স্থাপনায় আঘাত হানা হলে এর জেরে পুরো অঞ্চলের ওপর তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক রাষ্ট্র এই লড়াইয়ে ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করবে, তাদের দিকেও সতর্কবার্তার তীর ছুড়েছে দেশটি। শনিবার প্রকাশিত এক কড়া বিবৃতিতে ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত জেনেশুনে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক সর্বাত্মক ও ধ্বংসাত্মক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের চক্রান্ত সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি এবং ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধ নীতিকে সমর্থন দিতে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাজধানী, অর্থনৈতিক সম্পদ ও অবকাঠামোকে ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করা। অন্যায্য এই যুদ্ধে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষাকবচ বা সহযোগী হিসেবে কাজ করবে, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের সেই জ্বলন্ত আগুনে তাদেরও পুড়তে হবে বলে তিনি কড়া হুশিয়ারি দেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর