আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করেছে ইসরায়েল। তেল আবিবের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে এর জবাবে ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এমন পরিস্থিতিকে সামনে রেখে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তুরস্কের বার্তাসংস্থা টিআরটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পর ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এমন মাত্রার হামলা চালানো হবে যাতে ইরান আর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তার এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিয়োত আহরোনোত জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো সময় নির্দেশ দিতে পারেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান যদি পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইসরায়েল সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সে কারণেই আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েল নিজেও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অভিযানের সঙ্গে সমন্বয় করেও বিভিন্ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমটির বরাতে এক অজ্ঞাতনামা সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং তা যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সূত্রটির দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অবস্থানের খুব কাছাকাছি রয়েছেন।
ওই সূত্র আরও দাবি করেছে, ট্রাম্পের ধারণা—ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না এবং তা কেবল সময়ক্ষেপণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরিবর্তে সামরিক বিকল্পের দিকেই গুরুত্ব বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানও কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও দাবি করেছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হলে অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
সূত্র: টিআরটি