মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিধ্বস্ত গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার নয়া পরিকল্পনা ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উপত্যকাটিতে প্রাণহানির নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোররাত থেকে গাজা উপত্যকাজুড়ে মুহুর্মুহু হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত সূত্র জানায়, পশ্চিম গাজা শহরের আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন।
একই দিন দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের উত্তর-পশ্চিমে আল-কারারার একটি ভবনে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ সংলগ্ন আল-মাশালা এলাকায় বসতবাড়িতে ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার হামলায় ৬৮ বছর বয়সী কামু আবু মুয়াইলিক ও তাঁর ৫৯ বছর বয়সী স্ত্রী হুদা মারা যান।
উত্তর গাজার ঐতিহাসিক জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে চালানো এক হামলায় এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।
এদিকে শনিবারেই দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের কাছে প্রধান ওষুধের গুদামে বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ‘বোর্ড অব পিস’ এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ফোর্সের সহায়তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় পরবর্তী পর্বের চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। যদিও হামাস এই বিস্তৃত রূপরেখা মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ইসরায়েল সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে মুখ খোলেনি।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর থেকেও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১,২২২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪,০৫৩ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।