চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
পুলিশের যৌথ অভিযানের মুখে বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে। নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসপিকে উদ্দেশ্য করে এক পোস্টে রায়হান লিখেছেন, "দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার?"
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রায়হানের এই স্ট্যাটাসটি সোমবার (৩ আগস্ট) সর্বমহলে জানাজানি হলে চরম আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নোয়াখালীতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে চট্টগ্রামের এই শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানকে প্রায় ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। তবে শেষ মুহূর্তে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে এক ভবনের ছাদ থেকে পাশের ছাদে লাফিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি। অভিযান পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম রসিকতা করে মন্তব্য করেছিলেন, "রায়হান কোনোভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে গেছে ঠিকই, তবে সে জাহান্নাম না দেখলেও আজকের অভিযানে দোযখ ঠিকই দেখে ফেলেছে।" ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ সুপারের সেই মন্তব্যের পিঠেই কটাক্ষ করে ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দিয়েছে সন্ত্রাসী রায়হান।
একই ফেসবুক পোস্টে রায়হান নোয়াখালীর স্থানীয় কিছু বাসিন্দার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছে, "ধন্যবাদ নোয়াখালী রংমালার মানুষদের। তারা এমন নিখুঁতভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।" বিপদে যে কোনো মানুষই সাহায্যের আশা করে মন্তব্য করে সে আরও লিখেছে, "বিপদ আসবেই, তাই বলে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই।"
এদিকে সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিজেই পলায়নকৃত সন্ত্রাসী রায়হানের এই ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, "আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে ওই এলাকায় প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে নিরবচ্ছিন্ন চিরুনি অভিযান চালিয়েছিলাম। হতে পারে স্থানীয় কেউ তাকে পালিয়ে যেতে কিংবা সাময়িকভাবে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিল। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।"
রায়হানের পোস্টে নোয়াখালীবাসীকে ধন্যবাদ জানানো প্রসঙ্গে এসপি বলেন, "পুরো নোয়াখালীবাসী তো আর একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে সাহায্য করেনি। হতে পারে গুটি কয়েক লোক তার আসল পরিচয় না জেনে কিংবা ভয় পেয়ে আশ্রয় দিয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে।"