ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

শেখ হাসিনার পলায়নের পর সীমান্তে ভারতের রেড অ্যালার্ট ও বিশ্বনেতাদের বার্তা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:১৩ পিএম

মানবতাবিরোধী নানা অপরাধে অভিযুক্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। অকুতোভয় জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে সাড়ে ১৫ বছরের দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। শেখ হাসিনার অন্তর্ধানে বাংলাদেশ যখন এক নতুন দিগন্তে পদার্পণ করছিল, তখন গোটা বিশ্বের নজর আটকে ছিল ঢাকার ওপর। এই পটপরিবর্তনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পার্শ্ববর্তী মিত্র দেশ ভারতসহ বৈশ্বিক পরাশক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রতিক্রিয়া জানায়।


শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার তাৎক্ষণিক মুহূর্তে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করলেও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে ওঠে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিবেচনায় দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরো সীমান্তজুড়ে উচ্চ সতর্কতা বা 'রেড অ্যালার্ট' জারি করে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আকস্মিক ক্ষমতার পরিবর্তনে নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষাই ছিল তাদের প্রাথমিক অগ্রাধিকার।


অন্যদিকে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলো ছাত্র-জনতার ওপর চালানো দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ওপর জোর দেয়। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সরকার ছাত্র, শিক্ষকসহ অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে এবং অহেতুক আটককৃত সকল আন্দোলনকারীর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায়।


সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লামি গণঅভ্যুত্থানকালীন সকল ঘটনার নিরপেক্ষ ও জাতিসংঘের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও না হতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে এবং হোয়াইট হাউস একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জোর তাগিদ দেয়। একইভাবে কানাডার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেন।


ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে সংকট কাটিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার আশা প্রকাশ করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানবাধিকার বজায় রেখে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা তৈরি করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।


বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করে, বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব দ্রুতই সংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসবে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি সাবরে এক বার্তায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সহনশীলতার প্রশংসা করে দেশে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এসব প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দেয়, চব্বিশের এই অভ্যুত্থান বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে কতটা গভীর প্রভাব তৈরি করেছিল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর