চীন কিংবা রাশিয়ার সাথে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো সংঘাত তৈরি হলে তা মোকাবিলায় মার্কিন পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাস করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো—যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে দূরপাল্লার অস্ত্রের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক বিকল্পের সংখ্যা বাড়ানো।
বুধবার মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে পেন্টাগনের এই অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই নথিতে ঐতিহ্যবাহী দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর একচ্ছত্র নির্ভরতা কমিয়ে কৌশলগত ও স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবির সরাসরি তত্ত্বাবধানে কৌশলটি তৈরি করা হচ্ছে। ইন্দো-প্যাসিফিক বা ইউরোপীয় অঞ্চলে মস্কো বা বেইজিং কোনো মার্কিন মিত্র দেশের ওপর চড়াও হলে যুক্তরাষ্ট্র যেন সীমিত কিন্তু কার্যকর পারমাণবিক জবাব দিতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংকটের মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে যত বেশি ও বৈচিত্র্যময় বিকল্প থাকবে, প্রতিপক্ষকে নিরস্ত করার সক্ষমতা ততটাই শক্তিশালী হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় ‘নিউ স্টার্ট’ পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। দীর্ঘদিনের এই চুক্তি বাতিল হওয়ার পরই মূলত পেন্টাগন তাদের পুরোনো পারমাণবিক কৌশল আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তিটিতে উভয় দেশের জন্য সর্বোচ্চ ১,৫৫০টি স্ট্র্যাটেজিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ব্যবস্থা মোতায়েনের সীমা নির্ধারিত ছিল।
চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হলেও রাশিয়া জানিয়েছে, ওয়াশিংটন অস্ত্র না বাড়ালে তারাও নতুন করে ওয়ারহেড বাড়াবে না। এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পুরনো নিয়ম মানার প্রস্তাব করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ত্রিপক্ষীয় ও বৃহৎ চুক্তির পক্ষপাতী ছিলেন। তবে বেইজিং তা নাকচ করে দেয়। চীন জানায়, প্রায় ৬০০টি ওয়ারহেড থাকা বেইজিংয়ের চেয়ে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক সংগৃহীত রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ারই মূল নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে রাশিয়া তাগিদ দিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো ত্রিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি হলে সেখানে ন্যাটোর পারমাণবিক শক্তিধর সদস্য যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বর্তমানে ন্যাটোর ‘নিউক্লিয়ার শেয়ারিং’ চুক্তির অধীনে ইউরোপের বেশ কিছু দেশে আমেরিকান পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে, যাকে রাশিয়া নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।