আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিরিয়ায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ চলাকালীন ভয়াবহ অপরাধ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তার নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দামেস্কের ফৌজদারি আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিচার প্রক্রিয়ায় বাশার আল-আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর তার চাচাতো ভাই তথা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আতেফ নাজিবকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ভয়াবহ নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত করা হয়। নাজিব ২০১১ সালে দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সেখানে নির্মম দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে দেশজুড়ে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা করে।
আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালে দেরা প্রদেশে আসাদ সরকারের সংঘটিত এসব নৃশংস কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। বিশেষ করে নাজিব ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং মৃত্যুদণ্ডযোগ্য শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্কের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে থাকলে বাশার আল-আসাদ তার পরিবারসহ মস্কোতে পালিয়ে যান। তবে আতেফ নাজিব দেশ ছেড়ে পালাতে ব্যর্থ হন এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। সিরিয়ায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা হাফেজ আল-আসাদ ও তার পুত্র বাশার আল-আসাদের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এটিই তাদের বিরুদ্ধে ঘোষিত প্রথম রায়। মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, এই ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।