ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর কাল প্রকাশ হবে এইচএসসি রেজাল্ট, অনলাইনে জানবেন যেভাবে শনিবার বিক্ষোভ সামাল দিতে প্রস্তুত ফ্রান্সের ৭০ হাজার পুলিশ ভারতে ছয় আরোহীসহ হেলিকপ্টার নিখোঁজ, বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা ঝুলে গেল ইসরায়েলের নির্বাচন: রাজনৈতিক সংকটের আড়ালে হাসছেন নেতানিয়াহু তাহসিফ হত্যা রহস্য: দীপের এলোমেলো বক্তব্যে ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে আটক করল পুলিশ সাইকেলে ১৯১ দেশ ভ্রমণ: সোমেন দেবনাথের অনন্য কীর্তি নম্বরপ্লেটবিহীন বাইক উদ্ধার ও দীপের তথ্যে তাহসিফ মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড়

হাতুড়ি-বাটালের শব্দ ছাপিয়ে পিয়াসের জয়গান

তাড়াশে সর্বোচ্চ ১১৯৩ নম্বর পেয়ে প্রথম কাঠমিস্ত্রীর ছেলে


হাতুড়ি-বাটালের শব্দ ছাপিয়ে পিয়াসের জয়গান

  • আপলোড সময় : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:৫৮ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত অদম্য মেধাবী কাঠমিস্ত্রীর ছে‌লে পিয়াস মেধাতা‌লিকায় হ‌য়ে‌ছেন প্রথম, পে‌য়ে‌ছেন তাড়াশ উপ‌জেলার স‌র্বোচ্চ নম্বর ১১৯৩। হাতুড়ি বাটালের খটখট শব্দেও থেমে থাকেনি পিয়াসের পড়াশোনা। মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও মেধাবী শিক্ষার্থী পিয়াস সুত্রধরের উচ্চশিক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।


সোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আহমেদ আলী জানান, দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত অদম্য মেধাবী আমাদের পিয়াস এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় তাড়াশ উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে।


পিয়াস জানায়, অত্যন্ত অভাব আর  দারিদ্র্যের টানাটানির সংসার আমাদের।  বাবার আয়েই চলে সংসার। তাই পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে সাপ্তাহিক হাটবারের বেঁচাকেনার জন্য বাবার সাথে কাঠমিস্ত্রীর কাজও করেছি।


রেজাল্টের পরে পিয়াস সুত্রধর আরো বলেন, আমার রেজাল্ট প্রকাশের পর যখন জানতে পারলাম যে আমি GPA-5 পেয়েছি এবং তাড়াশ উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বর (১১৯৩/১২০০) অর্জন করেছি, তখন প্রথমে আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এতদিনের পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা আর অপেক্ষার পর ফলাফলটা দেখে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।


সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের মুখে হাসি দেখে। আমার এই সাফল্যের পেছনে আমার বাবা-মায়ের ত্যাগ, আমার শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং আমার নিজের পরিশ্রম সবকিছু জড়িয়ে আছে।

এই ফলাফল আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। আমি ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে আমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের মুখ আরও উজ্জ্বল করতে চাই। এই অর্জন আমার কাছে শুধু একটি ফলাফল নয় বরং সামনে বড় কিছু করার দায়িত্ব।


পিয়াসের বাবা ব‌লেন, রেজাল্টের খবর শুনে আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমার ছেলে GPA-5 পেয়েছে এবং তাড়াশ উপজেলায় প্রথম হয়েছে এটা একজন বাবা হিসেবে আমার জন্য অনেক গর্বের বিষয়। আমাদের সংসারে অভাব অনটন আছে, আমি কষ্ট করে সংসার চালাই। তারপরও চেষ্টা করেছি ছেলের পড়াশোনায় যেন কোনো সমস্যা না হয়। পিয়াসের এই ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে আমার সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। আমি চাই ভবিষ্যতে ও আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করুক এবং একজন ভালো মানুষ হোক।


ওর শিক্ষকরা যেভাবে ওকে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য আমি তাঁদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ফটিক কুমার সরকার জানান, পিয়াস অদম্য মেধাবী, কোন প্রতিকুলতাই তা‌কে দমা‌তে পা‌রে‌নি। সে বিজ্ঞান বিভা‌গের ছাত্র বিধায় তার পড়া‌শোনার জন‌্য বি‌শেষ কিছুর প্রয়োজন হয় যা আমরা প্রতিষ্ঠান থে‌কে সহযোগিতা ক‌রে‌ছি।


আর ভা‌লো কিছু করার জন‌্য তার ছিল তীর্ব ইচ্ছা ও প‌রিশ্রম। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যে টাকা উপার্জন করতেন তা দিয়ে তা‌দের পরিবারের সদস্যদের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই ছিল কষ্টসাধ‌্য। সদ্য প্রকাশিত এসএসসির রেজাল্টে সোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে এলাকায় আলোড়ন তৈরি করে। সে আমা‌দের বিদ‌্যাল‌য়ের গর্ব।



এ সম্পর্কিত আরো খবর