ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

আকাশসীমা লঙ্ঘন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:৫৭ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরাক। দেশটির স্পষ্ট অবস্থান—প্রতিবেশী অন্য যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর জন্য বা কোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে ইরাকের ভূখণ্ড কিংবা আকাশসীমা কোনোভাবেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কোনো বিদেশি শক্তি বা পক্ষকে ইরাকের ভূমি বা আকাশ ব্যবহার করে অন্য দেশের ওপর আঘাত হানার সুযোগ কিংবা ‘লঞ্চিং প্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি।

বুধবার গভীর রাতে ইরাকের এয়ার ডিফেন্স কমান্ড অপারেশনস সেন্টার পরিদর্শনের সময় উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা ও কমান্ডারের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই হুঁশিয়ারি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অপারেশনস সেন্টার সফরকালে তিনি ইরাকের সার্বিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য যেকোনো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সরাসরি পর্যালোচনা করেন। এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করা এবং নতুন প্রজন্মের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংযোজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধির জন্য একটি কৌশলগত ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভৌগোলিক অবস্থান ও আঞ্চলিক রাজনীতির কারণে ইরাক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থিত। তাই দেশের আকাশসীমাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা এবং আধুনিক রাডার, এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বেষ্টনীকে শক্তিশালী করা এই মুহূর্তে ইরাক সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নিরাপত্তা জোরদারের মধ্য দিয়েই যেকোনো অস্থিতিশীলতা থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি তাঁর বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরাক তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণের উদ্দেশ্যে ইরাকি ভূখণ্ড কিংবা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি কোনো অবস্থাতেই দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক সংঘাত বা বিদেশি শক্তির সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ইরাকের পবিত্র মাটি বা আকাশসীমাকে কোনোভাবেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেবে না তাঁর সরকার। ইরাক কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে পক্ষ নিতে চায় না, বরং নিজের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখাই বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর প্রধান লক্ষ্য।

একই সঙ্গে আল-জাইদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা অলঙ্ঘনীয়। যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মতো নিজের সীমানা রক্ষা করার পূর্ণ আইনি ও সামরিক অধিকার ইরাকের রয়েছে। যেকোনো দেশের সামরিক শক্তি বা অরাষ্ট্রীয় পক্ষের মাধ্যমে যদি ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হয় বা ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সেটিকে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘন বা অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ইরাক কোনোভাবেই সহ্য করবে না এবং যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতির সুষম ভারসাম্য বজায় রেখে চলবে ইরাক। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ইরাকের অন্যতম প্রধান নীতি। তবে এই বন্ধুত্বের অন্যতম শর্ত হলো একে অপরের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করা। এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় নির্দেশনা ইরাকের সামরিক বাহিনীকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করেছে এবং দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি করেছে। সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের ভূমি নিরপেক্ষ রাখা ও জাতীয় আকাশসীমার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই ইরাক সরকার ও সামরিক বাহিনী এই কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর