ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত থেকে আমদানি করা চালে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান, বিতরণ স্থগিত জাপানে ফ্লাইটে ত্রুটির ঘটনায় বিমানের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন চাকরির বহাল তবিয়তে ওকালতি! বিপাকে সরাইল থানার ওসি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন নারিতায় বিমানে ত্রুটি: সফরসঙ্গীদের নিয়েই দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তাহসিফ হত্যা রহস্য: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর পাঁচজনের মরদেহ আসছে শনিবার বরগুনার ডাকবাংলোর ৩ মরদেহ উদ্ধার: চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন ৫০ গজ দূর থেকে বাইক উদ্ধার, বন্ধু দ্বীপকে জেরা করছে পিবিআই স্পিন ঘূর্ণিতে ক্যারিবীয়দের গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড, রেকর্ড নাঈমের

যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নিলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:৪০ এএম

চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকের পরপরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের অবস্থান নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন দেশটির নবনিযুক্ত নিরাপত্তাপ্রধান। প্রায় ছয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা চরম সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার পটভূমিতে তেহরানের কৌশলগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের উত্থাপিত সব শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই নতি স্বীকার করবে না ইরান এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে নিজের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নবনিযুক্ত সচিব মোহসেন রেজায়ি এ কথা জানান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক এই যুদ্ধকালীন কমান্ডার-ইন-চিফ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের বার্তা একেবারেই পরিষ্কার এবং এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের সমস্ত সামরিক হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধ পুরোপুরি বন্ধ করছে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সংস্থায় আটকে রাখা ইরানের জব্দ করা সমস্ত সম্পদ ফেরত দিচ্ছে এবং লেবানন ও গাজাসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হচ্ছে—ততক্ষণ পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।

আইআরজিসির প্রভাবশালী এই সাবেক শীর্ষ সেনাপতি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ন্যায়সংগত সব শর্ত ও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি সর্বাত্মকভাবে বন্ধই থাকবে। মোহসেন রেজায়ির এই শক্ত বার্তা মূলত তাঁর পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এবং ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের দেওয়া শর্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশ্চিমাদের চাপের তোয়াক্কা না করে ইরানি কর্তৃপক্ষ বারবার বলে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার বিরুদ্ধে তারা তাদের প্রতিরোধ সংগ্রাম দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যেতে মানসিকভাবে প্রস্তুত ও পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা রাখে।


ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল মোহসেন রেজায়ির প্রথম উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। মঙ্গলবার তেহরানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত কং পেইউয়ের নেতৃত্বে আসা একটি শীর্ষ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজায়ি বৈঠকে বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের রাজনৈতিক, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার জোর তাগিদ দেন। একইসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ নানা আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানকে একঘরে করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আনা বিভিন্ন প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় এবং ইরানের পাশে দাঁড়ানোয় তিনি চীন সরকারের এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে রেজায়ি আরও স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত আঞ্চলিক বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতা বা চুক্তি তেহরানের নিজস্ব বিষয়; এর সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো সম্পর্ক নেই।


তবে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই এলাকায় ওমানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতামূলক সমঝোতার কথা শোনা গেলেও তার অগ্রগতি বেশ ধীরগতির। তেহরান থেকে গত সপ্তাহে জানানো হয়েছিল যে সমঝোতাটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তবুও এটি খুব দ্রুত কার্যকর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। ওমানের মধ্যস্থতার খবরের পাশাপাশি বাস্তবে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি উত্তপ্তই রয়ে গেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার পাশাপাশি অন্যদিকে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো প্রধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথেও সামরিক তৎপরতা ও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকট আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর