ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,  ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ দিনের মধ্যে দিতে হবে তথ্য

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৩৯ পিএম

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছে অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করতে পারেনি কিংবা কেবল আংশিক রপ্তানি সম্পন্ন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ৩ দিনের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।


মূলত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে প্রথম দফায় গত ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টিসহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানির আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনুমতিপ্রাপ্ত অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল বিদেশে পাঠাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান খুবই সামান্য বা আংশিক চাল রপ্তানি করেছে। এর ফলে অনুমোদিত সরকারি কোটা এবং বাস্তবে বিদেশে যাওয়া প্রকৃত চালের পরিমাণের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।


এর আগে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সুগন্ধি চালের দেশীয় উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত পরিসংখ্যান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়।


সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের একাংশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় চাল মিল মালিক ও সিন্ডিকেটের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চালের বিশাল মজুদ রোদ রয়েছে। সাধারণ বাজারে চাহিদা অনুযায়ী চালের সরবরাহ না বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার মাধ্যমেই তারা স্থানীয় বাজারে অহেতুক দাম বৃদ্ধি করছে।


সব পক্ষের অভিযোগ ও দাপ্তরিক তথ্য পর্যালোচনার পর খোলা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার অসাধু প্রবণতা রুখতে তদারকি জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি অনুমতি পেয়েও যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের বরাদ্দকৃত চাল পাঠাতে পারেনি, তাদের অলস পড়ে থাকা অব্যবহৃত কোটা বাতিল বা বহাল রাখার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখবে সরকার।


জরুরি ভিত্তিতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যাদি পুরোপুরি যাচাই-বাছাই করার পর অনুমোদিত কোটা কমানো, বাতিল করা বা নতুন করে সমন্বয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই কঠোর নীতির মাধ্যমে একদিকে দেশের স্থানীয় বাজারে চালের জোগান স্বাভাবিক রাখা এবং অন্যদিকে প্রকৃত ও দক্ষ রপ্তানিকারকদের সুষ্ঠু সুযোগ বজায় রাখার মাঝে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে সরকার।


এ সম্পর্কিত আরো খবর