দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রাজনৈতিক আবহে আজ রোববার (১৬ আগস্ট) জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলো আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুনির্দিষ্ট কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, নির্বাচন ভবনে জাতীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সকাল ১০টা থেকে প্রাপ্ত মনোনয়নপত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। নিয়ম অনুযায়ী জমা পড়া সবকটি আবেদনপত্রের যাচাই কাজ শতভাগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
ইসি সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মোট তিনটি পৃথক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সর্বশেষ আইনি তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনে অংশ নিতে অনিচ্ছুক হন বা নাম প্রত্যাহার করতে চান, তবে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পার করে এই প্রথমবার রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় সরাসরি ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই সাবেক ২২তম রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বেশ জোর আলোচনা ও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে কে হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান—সেদিকেই এখন নজর পুরো জাতির। তবে সব প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে আজকের এই বাছাই পর্বের দিকেই সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর