ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১১:৩৫ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাড়ে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার আলোচিত মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

 

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি রোববার (১৬ আগস্ট) শুনানির জন্য কার্য তালিকার ২২ নম্বর ক্রমিকে স্থান পায়।

 

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত শিশু রামিসা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পল্লবীর একটি বাসায় বসবাস করত এবং সে স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার একই ভবনের ভিন্ন একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে নিজ কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ১ নম্বর আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্বিতীয় আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

 

ঘটনার পরপরই রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। গত ২১ মে গ্রেপ্তার সোহেল রানা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ২৫ মে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দাখিল করেন।

 

বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে গত ৭ জুন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক দুই আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়।

 

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় বিচারিক আদালত রায় প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ট্রাইব্যুনালের ডেথ রেফারেন্স নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন দাখিল করেন।



এ সম্পর্কিত আরো খবর