রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী পিকআপ উল্টে চারজন মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। এ মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। রোববার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি সেনা চেকপোস্টের সামনের প্রধান সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মেঘরানী চাকমা (৪৫), সান্ত্বনা চাকমা (৩৮), শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫) এবং শোভা চাকমা (৫২)। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০) ও সুমন চাকমা (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরের দিকে রাঙ্গামাটি শহর এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন যাত্রী ও কৃষিপণ্য নিয়ে একটি বাণিজ্যিক পিকআপ দ্রুতগতিতে কুতুকছড়ি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি মানিকছড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পিকআপটি সড়কের ওপর সজোরে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মেঘরানী চাকমা, সান্ত্বনা চাকমা ও শান্তি রঞ্জন চাকমা নামে তিন যাত্রী পিষ্ট হয়ে মারা যান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শোভা চাকমার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সওকত আকবর খান জানান, দুর্ঘটনায় আহত দুইজনকে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আর নিহতদের লাশ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্তের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দীন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হওয়া যাত্রীরা সবাই পেশায় স্থানীয় কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী ছিলেন। তারা নিজেদের উৎপাদিত ও সংগৃহীত মালামাল নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনাকবলিত ও হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর