ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের হুমকির ২৪ ঘণ্টার মাথায়  ইরান-ওমানের চুক্তি


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:৩৪ এএম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই শনিবার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদানকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।


ইরানি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দেফা প্রেসকে দেওয়া এক একচেটিয়া সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট পথ বা রুট নির্ধারণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের একটি যুগান্তকারী চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যৌথ এই চুক্তিটি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে সমস্ত মার্কিন চাপ ও বাধাবিপত্তিকে তোয়াক্কা না করে ইরান এবং ওমান টানা তিন সপ্তাহ ধরে গঠনমূলক ও নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই কূটনৈতিক আলোচনার সফল ও ইতিবাচক পরিণতি হিসেবেই এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বহুল কাঙ্ক্ষিত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত সম্ভব হয়েছে।


সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘায়েই দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত বিরোধিতা ও বাধার মুখেও গত তিন সপ্তাহের ধারাবাহিক আলোচনায় আমরা যথেষ্ট ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছি। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক রুট ও নৌ-মানচিত্র নিয়ে উভয় দেশ একটি একক সমঝোতা ও চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।’


উল্লেখ্য যে, এর ঠিক এক দিন আগে শুক্রবার নিউইয়র্কে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এক চরম বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, সম্ভাব্য যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরানকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই অতিগুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন তিনি। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন, ‘যুদ্ধে ইরানকে সামরিকভাবে পরাস্ত করার পর, অত্যন্ত কঠোরভাবে পরাস্ত করার পর, খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড বা ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব।’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন চরম উসকানিমূলক ও আগ্রাসী মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় ওমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল সংক্রান্ত এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের খবর নিশ্চিত করল তেজস্বী তেহরান। শনিবারের সাক্ষাৎকারটিতে ইরানি মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই আরও খোলাসা করেন যে, বহুপাক্ষিক এই চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন ও সফল স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় ইরানের পক্ষে মূল নেতৃত্ব দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তা ছাড়া ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ, সার্বিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারাও টানা তিন সপ্তাহের এই জটিল আলোচনায় সরাসরি অংশ নেন।


তবে বহুল আলোচিত এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখন পর্যন্ত ইরান কিংবা ওমান সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো যৌথ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বিবৃতি জারি করা হয়নি। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্র বাঘায়েই ব্যাখ্যা করে জানান যে, সম্পাদিত চুক্তির কিছু প্রযুক্তিগত ও দ্বিপাক্ষিক বিষয় এখনও চূড়ান্তভাবে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়ে গেছে এবং সেগুলো নিয়ে বর্তমানে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা ও মতামত বিনিময় প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাকি আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর পারস্পরিক সমাধান হয়ে যাবে। আর তার পরেই উভয় দেশের পক্ষ থেকে যৌথভাবে পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সামনে প্রকাশ করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর