ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ৩ পাইলটকে আটকের অভিযোগ অস্বীকার কাতারের


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:০৯ এএম

কাতারের আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রবেশ করার পর ভূপাতিত হওয়া ইরানি যুদ্ধবিমানের তিন পাইলটকে গত কয়েক মাস ধরে বেআইনিভাবে আটকে রাখার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ধরনের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তা অস্বীকার করেছে কাতার সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির স্পষ্ট দাবি, কোনো ইরানি সামরিক পাইলটকে তাদের দেশে বেআইনিভাবে বা জোরপূর্বক আটক করে রাখা হয়নি। বরং বিমান দুর্ঘটনার পরপরই নিখোঁজ পাইলটদের দ্রুত খুঁজে বের করতে ও উদ্ধার করতে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে কাতারের বিশেষ উদ্ধারকারী দল। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বরাত দিয়ে ইরাকি সংবাদসংস্থা শাফাক নিউজ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত ও প্রকাশ করেছে।


প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্য অনুসারে, শনিবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ইরানের তোলা এই গুরুতর সামরিক অভিযোগটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রকাশ্যে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে জানান যে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইরানি বিমানবাহিনীর দুটি সামরিক যুদ্ধবিমান হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভেঙে কাতারের সার্বভৌম আকাশসীমায় অনধিকার প্রবেশ করে। বিমান দুটি সনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই কাতারি সামরিক কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ওই ইরানি বিমানগুলোর সঠিক গতিপথ ও অবস্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে বিমানগুলোর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে ইরানি বিমানগুলোর পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও কোনো ধরনের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায়, কাতারের নিজস্ব ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক নীতি অনুযায়ী যা যা প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার ছিল, কাতারি প্রতিরক্ষা বাহিনী ঠিক সেই পদক্ষেপই গ্রহণ করে।


কাতারি মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি আরও বলেন, ওই অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক ঘটনার সার্বিক বিষয়ে কাতার এরই মধ্যে ইরানের সরকারের কাছে তাদের অফিশিয়াল ও সরকারি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অত্যন্ত বিস্তারিত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দিয়েছে। কাতারি ভূখণ্ডে বিমান ভূপাতিত হওয়ার পরপরই নিখোঁজ হওয়া ইরানি সামরিক পাইলটদের উদ্ধার করার জন্য কাতারের বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল দ্রুততার সাথে পুরো এলাকায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছিল।


এই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় কাতার উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থল থেকে একজন পাইলটের অক্ষত মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বলে জানান এই মুখপাত্র। উদ্ধার হওয়া সেই মৃত দেহটি যথাযথ মর্যাদায় ইরানের সরকারের কাছে হস্তান্তরের জন্য কাতার বর্তমানে তেহরানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এ ছাড়া উদ্ধার অভিযানের সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও কারিগরি তথ্য সরাসরি জানাতে একটি বিশেষজ্ঞ টিমকে কাতারে পাঠানোর জন্য ইরানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে দোহা। তবে কাতারের পাঠানো সেই বন্ধুভাবাপন্ন আমন্ত্রণে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র।


এর আগে শনিবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সদর দপ্তরে পাঠানো এক জরুরি ও আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিযোগ করে বলেছিলেন যে, গত এপ্রিল মাসে কাতারের আকাশসীমায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভূপাতিত হওয়া দুটি সু-২৪ সামরিক যুদ্ধবিমানের তিন পাইলটকে কাতার সরকার তাদের রাজধানী দোহায় দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে।


প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পূর্ববর্তী খবরের ভিত্তিতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, উন্নত প্রযুক্তির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে থাকা পাইলট মাজিদ কাজেমির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি এপ্রিলের সেই ঘটনায় ভূপাতিত হওয়া মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমানের একটির প্রধান ক্রু সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।


ইরানি শীর্ষ সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আরও জানানো হয়েছে যে, ওই দুটি যুদ্ধবিমানের সাথে থাকা অন্যান্য আরও তিন ক্রু সদস্যের বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কী দাঁড়িয়েছে এবং তারা কোথায় অবস্থান করছেন, তা বিস্তারিত অনুসন্ধান ও উদঘাটন করতে তাদের পক্ষ থেকে সামরিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর