অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জীবনের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে সাজঘরে ফেরালেন বাংলাদেশি গতি তারকা হাসান মাহমুদ। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার চরম বিপদের মুহূর্তে দুর্দান্ত দায়িত্বশীল এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অজিদের ইনিংসে বিশাল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন গ্রিন। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। তবে শতক হাঁকিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার পর অবশেষে এই তরুণ ব্যাটারকে আউট করে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ার পর ক্যামেরন গ্রিনের ওপর ভর করেই মূলত ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা খুঁজে পায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। একপ্রান্ত আগলে রেখে অনবদ্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে তিনি দলকে কেবল বিপর্যয় থেকেই রক্ষা করেননি, বরং দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে লিড এনে দিতেও মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। গ্রিনের এই কার্যকরী ও ধ্বংসাত্মক ইনিংসের ওপর ভর করে ৯১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৮ উইকেটে ২৭৪ রান। এর ফলে স্বাগতিকরা বর্তমানে ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড নিজেদের ঝুলিতে পুরতে পেরেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের দুর্দান্ত আক্রমণের মুখে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের স্পিন তোপ সামলাতে গিয়ে অজিদের মিডল ও লোয়ার অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু এমন কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ক্রিজের একপ্রান্ত শক্ত হাতে আগলে ধরে অনবদ্য ও শৈল্পিক লড়াই চালান ক্যামেরন গ্রিন।
গ্রিনের এই সেঞ্চুরিটি তাঁর পুরো ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় ইনিংস হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, কারণ এটি তাঁর নিজ দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি অর্জন। ডারউইনের জটিল ও স্পিন সহায়ক উইকেটে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সঙ্গে বাংলাদেশ দলের প্রতিটি আক্রমণ মোকাবিলা করে নিজের শতক পূর্ণ করেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের তরুণ ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদের এক দুর্দান্ত ও নিখুঁত ডেলিভারিতে গ্রিনের এই দীর্ঘ ও ধৈর্যশীল প্রতিরোধ ভাঙতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। সেঞ্চুরিয়ান গ্রিনকে ফিরিয়ে অজিদের রান তোলার গতিতে পুনরায় বাঁধ সাধতে পেরেছে সফরকারী টাইগাররা। গ্রিন আউট হলেও অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত ৪৬ রানে এগিয়ে থেকে ম্যাচে জমজমাট এক নাটকীয়তার সৃষ্টি করেছে।