ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরাজের জাদুর পরও গ্রিন-স্টার্কের জুটিতে এগিয়ে গেল অজিরা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:৪৮ এএম

খেলার চতুর্থ দিনের প্রথম দেড় ঘণ্টায় নিজের স্পিন জাদু দেখিয়ে অজিদের ইনিংসে ধস নামান বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। অজি ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন একপ্রান্ত শক্ত হাতে সামলে রাখলেও অন্যপ্রান্তে থাকা অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে একে একে সাজঘরে ফেরান মিরাজ। এই বাংলাদেশি অফ-স্পিনারের চোখধাঁধানো বোলিং নৈপুণ্যে একপর্যায়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে সব হিসাব পাল্টে দিয়ে গ্রিন ও মিচেল স্টার্কের দায়িত্বশীল জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে উল্টো লিড বাগিয়ে নিয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।


দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের খেলা শুরুর সপ্তম ওভারেই তারা নিজেদের পঞ্চম উইকেটটি হারায়। উইকেটরক্ষক ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারিকে সাজঘরে ফিরিয়ে গ্রিনের সঙ্গে গড়ে ওঠা ৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি ভেঙে দেন মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ক্যারি ৭২ বলে ৩০ রান করে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন।


দীর্ঘ ১৩ মাস পর এবং ১৩টি টেস্ট ইনিংসে নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অপরাজিত থাকা ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে অবশ্য বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি বেউ ওয়েবস্টার। মিরাজ তাঁকে মাত্র ৫ রানে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান। এরপর ১০৯ বলে ২ চারের সাহায্যে নিজের দায়িত্বশীল ফিফটি পূরণ করা গ্রিনকে সঙ্গ দিতে উইকেটে আসেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে কামিন্সও বাংলাদেশি বোলিং আক্রমণের সামনে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেননি; মাত্র ৮ রান করে তিনি শর্ট ফিল্ডার সাদমান ইসলামের তালুবন্দি হন। কামিন্সকে আউট করে নতুন দিনের শুরুতেই নিজের বোলিং স্পেলকে দারুণ জায়গায় নিয়ে যান মিরাজ। এটি ছিল নতুন দিনে তাঁর তৃতীয় এবং চলমান ইনিংসে চতুর্থ উইকেট। আর এর ফলেই ২০৭ রানের মাথায় নিজেদের সপ্তম উইকেট হারিয়ে চরম চাপের মুখে পড়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।


পরবর্তী সময়ে অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে অভিজ্ঞ মিচেল স্টার্ক ও তরুণ ক্যামেরন গ্রিনের জুটিতে ইনিংসের ৭৯তম ওভারের শেষ বলে বাংলাদেশের সংগৃহীত রানের সমতায় পৌঁছে যায় স্বাগতিক দল। এরপর আরও দুটি বল খেলে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় ইনিংসে অগ্রগামিতা ও লিড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। গ্রিন চমৎকার একটি সিগন্যাল সিঙ্গেল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ২২৯ রান এনে দেন এবং দলকে ইনিংস হারের লজ্জা থেকে বাঁচান।


প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে প্রথম ইনিংসের মতো পুরোপুরি ভরাডুবি দেখেনি স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ প্রায় দুটি সেশনে চার উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর তীব্র মানসিক চাপ তৈরি করতে পেরেছিল। কিন্তু তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে স্বাগতিক ব্যাটাররা দারুণ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। প্রথম ইনিংসের ব্যবধান থেকে ৬৭ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে তারা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর ও লড়াই করার মানসিকতা ফিরিয়ে আনছিল।


ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অজিদের তোলা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের এক বিশাল পাহাড়সম স্কোর গড়ে তোলে। ওপেনিং ব্যাটার তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোখধাঁধানো হাফ সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর ফিফটিতে ভর করে সফরকারী টাইগাররা অত্যন্ত শক্ত ও সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে তাদের প্রথম ইনিংসের খেলা সম্পন্ন করে। শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনে লাঞ্চের বিরতির ঠিক পরপরই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। হাতে চার উইকেট রেখে দিনের খেলা শুরু করেছিল সফরকারীরা। শেষ চারটি উইকেট একাই তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার জশ হ্যাজলউড, যিনি পুরো ইনিংসে একাই ৬টি উইকেট শিকার করেছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর