ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬,  ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নড়াইলে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:৩৫ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়ায় তুলি বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীদের পরিবারের অত্যাচার ও যৌতুকের জের ধরে তুলিকে পিটিয়ে হত্যার পর আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনেরা। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রবিন মোল্যা পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের বেলটিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রবিন মোল্যা (২৫) বেলটিয়া গ্রামের সাকায়াত মোল্যার ছেলে। নিহত তুলি বেগম একই ইউনিয়নের মোচড়া গ্রামের ইলিয়াস শেখের মেয়ে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে বেলটিয়া গ্রামের রবিন মোল্যার সঙ্গে তুলির বিয়ে হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তুলির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন রবিন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ইতিপূর্বে তুলির বাবা ইলিয়াস শেখ জামাতা রবিনকে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। তবে এতেও ক্ষান্ত না হয়ে রবিন পুনরায় নতুন করে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

গত শুক্রবার রাতে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। পরবর্তীতে শনিবার ভোরে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে তুলির মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের বাবা ইলিয়াস শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, "আমার মেয়ের গলা, কান, পা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। যৌতুকের দাবি করা টাকা না দেওয়ায় রবিন ও তার পরিবারের সদস্যরা আমার মেয়েকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।" এ ঘটনায় তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী রবিন মোল্যার সঙ্গে একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর