রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করা ‘মিজানের ভাতের হোটেল’ উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ফুটপাত ও মূল সড়ক দখল করে অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হোটেলটির স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি আগারগাঁও এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ও দখলমুক্ত করতে এক বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানের অংশ হিসেবেই ভাইরাল হওয়া ‘মিজানের ভাতের হোটেল’-এর অবৈধ পরিকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়। পুরো অভিযান চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাফরুল থানা পুলিশ সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কাফরুল এলাকার অত্যন্ত ব্যস্ত মূল সড়ক এবং সাধারণ পথচারীদের হাঁটার ফুটপাত বেআইনিভাবে দখল করে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করেছিলেন। সেখানে তিনি বিশাল পরিসরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এর ফলে প্রতিদিন ওই এলাকায় সাধারণ পথচারীদের স্বাভাবিক পায়ে হেঁটে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল এবং সংলগ্ন সড়কে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো।
এর আগেও হোটেল মালিক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। গত ১০ আগস্ট আগারগাঁও এলাকায় মিজানের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালানো হয়। সে সময় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্যকে কাচের বোতল দিয়ে আঘাত করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তৎক্ষণাৎ তাকে আটক করে নিকটস্থ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য মিজানুর রহমানকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, অত্যন্ত কম খরচে অর্থাৎ ১০০ টাকায় সুস্বাদু ভাত-মাংস পরিবেশনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ার পর রাতারাতি ভাইরাল হয় ‘মিজানের ভাতের হোটেল’। স্বল্পমূল্যে খাবার বিক্রির কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ ও সাধারণ ভোজনরসিকদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তবে সরকারি আইন অমান্য করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় শেষ পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হলো আলোচিত এই হোটেলটি।